বৈশাখী উৎসবের বর্ণিল মোটিভ তৈরিতে ব্যস্ত ‘শিশুপল্লী প্লাস’ এর মা ও শিশুরা। আজ সোমবার
বৈশাখী উৎসবের বর্ণিল মোটিভ তৈরিতে ব্যস্ত  ‘শিশুপল্লী প্লাস’ এর মা ও শিশুরা। আজ সোমবার

গাজীপুরে মা ও শিশুদের হাতের ছোঁয়ায় তৈরি হচ্ছে বৈশাখী উৎসবের বর্ণিল মোটিভ

আগামীকাল মঙ্গলবার পয়লা বৈশাখ উদ্‌যাপিত হবে। বাঙালির প্রাণের এই উৎসবকে ঘিরে এখন দেশজুড়ে সাজ সাজ রব। সেই উৎসবের রং লেগেছে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার টেংরা গ্রামে অবস্থিত মা ও শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র ‘শিশুপল্লী প্লাস’–এ। ব্রিটিশ নাগরিক পেট্রিসিয়া অ্যান ভিভিয়ানা কার প্রতিষ্ঠিত এই কেন্দ্রে আশ্রিত মা ও শিশুরা এখন ব্যস্ত বৈশাখী মোটিভ তৈরিতে।

আজ সোমবার সকালে পুনর্বাসন কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় এক উৎসবমুখর পরিবেশ। সেখানে মায়েরা নিপুণ হাতে তৈরি করছেন বৈশাখী মোটিভ। পাশেই উৎসুক চোখে তা দেখছে শিশুরা। কেউ আবার মায়ের তৈরি মোটিভের গায়ে কাঁচা হাতে রংতুলির মাধ্যমে মনের মাধুরী মিশিয়ে রাঙিয়ে তুলছে। এবারের বৈশাখী আয়োজনে মোটিভ হিসেবে তৈরি করা হচ্ছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, লোকপাখি, রঙিন ঘুড়ি, মাছ, প্যাঁচা, ময়ূরসহ নানা অনুষঙ্গ। প্রতিষ্ঠানের ভেতরে থাকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির ৭০ জন শিশু এবং তাদের মায়েরা সরাসরি এই কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। পুরো প্রজেক্টের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রতিষ্ঠানটির ক্রিয়েটিভ আর্ট ডিরেক্টর মিলন রব।

মোটিভ তৈরিতে ব্যস্ত সিতা হাজদা জানান, কাজ করতে করতে তিনি তাঁর সন্তান সুব্রত সরেনকেও শেখাচ্ছেন। ছোট্ট সুব্রত উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলে, ‘বৈশাখে আমরা অনেক আনন্দ করব। এইগুলো নিয়ে আমরা র‍্যালিতে যাব। সামনের বছর আমি নিজেই এসব বানানো শিখব।’ আরেক মা শাহানা বেগম বলেন, ‘মিলন রবের কাছ থেকে আমরা এসব কাজ শিখেছি। এখন সন্তানকে নিয়ে এগুলো করতে খুব ভালো লাগছে। বছরে এই একটি দিন আমরা আমাদের সন্তানদের নিয়ে দারুণ আনন্দ করি।’

বৈশাখবরণে শিশুপল্লী প্লাস বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। উৎসবের দিনটি শুরু হবে সূর্যোদয়ের পর বর্ণাঢ্য র‍্যালির মাধ্যমে। এরপর ঐতিহ্য মেনে সবাইকে পান্তা-রুই মাছ দিয়ে সকালের নাশতা করানো হবে। সকাল ৯টা থেকে শুরু হবে মূল বর্ষবরণ অনুষ্ঠান, যেখানে শিশুরা নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করবে। দুপুরের খাবারের পর শিশুদের জন্য থাকছে আশপাশের মেলা ঘুরে দেখার সুযোগ।

এ বিষয়ে ক্রিয়েটিভ আর্ট ডিরেক্টর মিলন রব বলেন, ‘এখানে প্রতিটি শিশু বাংলাদেশের একেকটি কোমল রূপ নিয়ে বেড়ে ওঠে। আবহমান বাংলার চিরায়ত রূপ এসব মোটিভ ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে তারা শিখতে থাকে। আমরা মূলত তাদের দেশজ সংস্কৃতির সৌন্দর্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কাজটি করছি। প্রতিবছরের মতো এবারও মা ও শিশুদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ বৈশাখী উৎসবকে এক ভিন্নমাত্রা দেবে বলে মনে করি।’

গাজীপুরের শ্রীপুরের টেংরা গ্রামে ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় দুস্থ মা ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পুনর্বাসন কেন্দ্র শিশুপল্লী প্লাস। নাম–পরিচয়হীন অনাথ শিশুদের আশ্রয়স্থলও এটি। ব্রিটিশ নারী পেট্রিসিয়া অ্যান ভিভিয়ানা কার এর প্রতিষ্ঠাতা। বিশাল পরিসরের এই প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে প্রায় ৬৫০ মা ও শিশু আছে। সেখানে মায়েদের কর্মমুখী শিক্ষার মধ্য দিয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করা হয়। শিশুপল্লী প্লাসের ভেতরে স্কুলে শিক্ষা প্রদান করা হয় সেখানে আশ্রয়ে থাকা শিশুদের। কয়েক বছর আগে শিশুপল্লী প্লাসের প্রতিষ্ঠাতা পেট্রিসিয়াকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেওয়া হয়।