
নেত্রকোনার কলমাকান্দায় দাম্পত্য কলহের জেরে স্বামীকে কুড়াল দিয়ে হত্যা করার দায়ে এক গৃহবধূকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আজ সোমবার দুপুরে নেত্রকোনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোছা. মরিয়ম-মুন-মুজুরী এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি আবুল হাসেম।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রুবিনা আক্তার (২৮) কলমাকান্দার কৈলাটি গ্রামের বজলুর রহমানের মেয়ে। আর নিহত রক্কু মিয়া (৩৫) পূর্বধলা উপজেলা লেটিরকান্দা গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার এজাহার, স্থানীয় ও আদালত সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর আগে রুক্কু মিয়ার সঙ্গে রুবিনা আক্তারের বিয়ে হয়। তাঁদের দুটি মেয়েসন্তান আছে। দাম্পত্য জীবনে দীর্ঘদিন ধরে কলহ চলছিল। রুক্কু মিয়া ২০২০ সালের শেষে দিকে পরিবার নিয়ে গাজীপুরে চলে যান। সেখানে পোশাক কারখানায় কাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে রুবিনা গাজীপুরের ভাড়া বাসা ছেড়ে বাবার বাড়ি কৈলাটিতে চলে আসেন।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, ২০২১ সালের ১৪ মে ঈদের দিন রুকু মিয়া সন্তানদের দেখতে শ্বশুরবাড়িতে যান এবং সেখানে অবস্থান করেন। পরদিন দিবাগত রাত একটার দিকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে রুবিনা আক্তার তাঁর স্বামী রুকু মিয়াকে কুড়াল দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করেন। পরদিন সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির ভাই আসাদ মিয়া কলমাকান্দা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ ২০২২ সালের ১৭ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষে আজ রায় ঘোষণা করা হয়।
মামলা পরিচালনায় আসামির পক্ষের আইনজীবী ছিলেন আনিসুর রহমান।