রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত ১১–দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে বক্তব্য দেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান। আজ শনিবার বিকেলে তোলা
রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত ১১–দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে বক্তব্য দেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান। আজ শনিবার বিকেলে তোলা

আপনাদের নাম ছিল জাতীয়তাবাদী দল, এখন মানুষ বলে চাঁদাবাজি দল: জামায়াতের আমির

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেছেন, সরকারের ধোঁকাবাজি ও প্রতারণার বিরুদ্ধে দলটির আন্দোলন সংসদ ও রাজপথে একযোগে চলবে। আজ শনিবার বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত ১১–দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সরকারের সমালোচনা করে জামায়াতের আমির বলেন, ‘যে ১৬টি অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন না হলে বাংলাদেশের সুশাসন নিশ্চিত করা অসম্ভব, সেগুলো তারা ফেলে দিয়েছে। এগুলা যদি তারা বাস্তবায়ন না করে, আমি কথা দিয়ে যাচ্ছি, আমাদের আন্দোলন চলবে সংসদে, একই সঙ্গে রাজপথেও।’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘ত্যাগ ও কোরবানির মধ্য দিয়ে আমাদের বুকের ওপর থেকে ফ্যাসিবাদী শাসনকে আল্লাহ–তাআলা খতম করে দিয়েছেন। তরুণদের নেতৃত্বে গণ–আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে এবং সেই আন্দোলনের সুফল ভোগ করছেন বর্তমান ক্ষমতাসীনরা।’

গণভোটের রায় অগ্রাহ্য করার মানে জনগণকে অপমান করা জানিয়ে বিরোধী দলের এই নেতা বলেন, ‘জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে অতীতে কেউ রেহাই পায়নি, আপনারাও রেহাই পাবেন না। গণভোটের রায়ও বাস্তবায়ন করতে বাধ্য করা হবে।’

বিএনপির সমালোচনা করে জামায়াতের আমির বলেন, ‘দেশে রাজনৈতিক দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি। আপনাদের নাম ছিল জাতীয়তাবাদী দল। এখন মানুষ বলে চাঁদাবাজি দল।’

সংসদে কথা বলতে না দেওয়া হলে রাজপথে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘যেখানে স্পিকারের অনুমতি নিয়ে কথা বলা লাগে, সেখানে যদি কথা বলতে দেওয়া না হয়, তাহলে আমরা সেখানে চলে আসব, যেখানে কথা বলার জন্য স্পিকারের কোনো অনুমতি লাগে না। আমরা তখন জনগণের পার্লামেন্টে চলে আসব।’

সমাবেশে জামায়াতের এই নেতা দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

শফিকুর রহমান ইতিহাস প্রসঙ্গে বলেন, ‘অতীতের ভূমিকা ও অবদানকে সম্মান জানানো হলেও শুধু অতীত নিয়ে পড়ে থাকলে জাতি এগোতে পারবে না। ইতিহাস আমরা চর্চা করব, কিন্তু ইতিহাস নিয়ে পড়ে থাকব না। ইতিহাস চর্চা করব ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার জন্য।’

সরকারের পদ্মা ব্যারেজ ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, এটা যেন শুধু লোকদেখানো ঘোষণা না হয়। এটি যেন বাস্তবে রূপ নেয়।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে শফিকুর রহমান বলেন, তিস্তাসহ ওই তিনটা নদীর পাড়ের মানুষের আড়াই কোটি মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দূর করার জন্য তিস্তা মহাপরিকল্পনা অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে। কারও রক্তচক্ষুর দিকে না তাকিয়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনা অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে।

প্রতিবেশী দেশ ভারত প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমরা চাই, আপনারা শান্তিতে থাকুন নিজেদের দেশের ভিতরে মানবিক পরিবেশ তৈরি হোক। আপনারা আমাদের শান্তি নিয়ে টান দিলে কারও শান্তি থাকবে না।’

ওই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের সহকারী জেনারেল সেক্রেটারি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও সঞ্চালনা করেন রাজশাহী মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মণ্ডল। সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমদ, জামায়াতের নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির সিরাজুল হক, বাংলাদেশ নেজামে ইসলামীর আমির আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালাল উদ্দিম আহমদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম।