মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় একটি কারখানার পরিত্যক্ত গুদামে ১৩টি ঘোড়া জবাই করে মাংস প্রক্রিয়াজাত করার অভিযোগে ৯ জনকে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তাঁদের মধ্যে একজনকে এক বছর এবং অপর আটজনকে ছয় মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আজ বুধবার দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিক্তা খাতুন এই সাজা দেন। কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন, মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার মিজানুর রহমান, গাজীপুর সদরের রুবেল হোসেন ও ইব্রাহিম খলিল, জামালপুরের সোহেল রানা, ঢাকার বাড্ডা এলাকার ইমন হাসান, তুহিন হোসেন ও মাসুদ রানা, টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীর হুমায়ুন কবির এবং ঢাকার বড় বেরাত এলাকার মারুফ হোসেন। তাঁদের মধ্যে মিজানুরকে এক বছর এবং অপর আটজনকে ছয় মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
জবাই করা এসব ঘোড়ার মাংসকে গরু ও মহিষের মাংস হিসেবে ঢাকার বিভিন্ন খাবার হোটেলে সরবরাহের কথা ছিল। কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা তা স্বীকার করেছেন।রিক্তা খাতুন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), মানিকগঞ্জ সদর
মানিকগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. মনির হোসেন বলেন, খাদ্য প্রস্তুতকারী একটি প্রতিষ্ঠানের কারখানার পরিত্যক্ত গুদামে রাতের অন্ধকারে ঘোড়াগুলোকে জবাই করা হয়। তবে গুদামের মালিক কে এবং কোথায় থেকে ঘোড়াগুলো আনা হয়েছিল, তা প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি। এ ছাড়া কোন যানবাহনে ঘোড়াগুলো আনা হয়েছিল, তা–ও জানা যায়নি। দণ্ড পাওয়া ব্যক্তিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে গোপন সংবাদ পাওয়া যায় মানিকগঞ্জ সদর এলাকায় একটি কারখানার পরিত্যক্ত গুদামে ঘোড়া জবাই করা হচ্ছে। সেখানে অভিযান চালিয়ে ৯ জনকে আটক করে পুলিশ। এ সময় সেখানে ১৩টি ঘোড়া জবাই করে মাংস প্রক্রিয়াজাত করার কাজ চলছিল।
আটক সবাইকে আজ বুধবার দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়। বিভিন্ন খাবারের হোটেলে মাংস সরবরাহের জন্য ঘোড়াগুলো জবাই করা হয় বলে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দোষ স্বীকার করায় তাঁদের প্রত্যেককে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পুলিশ জানায়, মিজানুর রহমান আটজনকে ভাড়া করে ঘোড়া জবাই ও মাংস প্রক্রিয়াজাত করার জন্য চুক্তি করেছিলেন। প্রক্রিয়াজাত করা মাংস ঢাকায় যাত্রাবাড়ী এলাকায় সরবরাহ করার কথা ছিল।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিক্তা খাতুন বলেন, জবাই করা এসব ঘোড়ার মাংসকে গরু ও মহিষের মাংস হিসেবে ঢাকার বিভিন্ন খাবার হোটেলে সরবরাহের কথা ছিল। কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা তা স্বীকার করেছেন। পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১১-এর ৪ ধারা লঙ্ঘনের দায়ে তাঁদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এ ধারায় বলা হয়েছে, সরকার যেকোনো পশু জবাই নিষিদ্ধ করার লক্ষ্যে বিধি প্রণয়ন করতে পারবে। এ ছাড়া কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা বিধিতে উল্লেখিত জবাই নিষিদ্ধ পশু জবাই করতে বা জবাই করার অনুমতি প্রদান করতে পারবেন না।
সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. মনির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ঘোড়ার মাংস নিষিদ্ধ। কারণ, দেশে গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়ার মাংসের বাজার ও জবাইব্যবস্থা বেশি প্রচলিত। ঘোড়ার মাংস খাদ্য হিসেবে প্রচলিত নয়। পাশাপাশি ঘোড়াগুলো অনুমোদিত স্থানে এবং নির্ধারিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে জবাই ও প্রক্রিয়াজাত করা হয়নি।