
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তাকে দায়ী করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তাঁদের অভিযোগ, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে ছাত্র নামধারী সন্ত্রাসীরা সাংবাদিকদের ওপর হামলা করেছে। হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার, বহিষ্কার, ছাত্রত্ব, সনদ বাতিলসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ আয়োজিত মানববন্ধনে এ কথা বলেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে আজ ক্লাস বর্জন কর্মসূচিও পালন করছে বিভাগটি। এ ঘটনায় পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে দুপুরে একাডেমিক সভা আহ্বান করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বিভাগের অধ্যাপক আ-আল মামুন, অধ্যাপক মোজাম্মেল হোসেন, অধ্যাপক মশিহুর রহমান, সহযোগী অধ্যাপক কাজী মামুন হায়দার, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি ইরফান তামিম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সভাপতি আশিকুল ইসলাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির অর্থ সম্পাদক দীন ইসলাম, বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ফারজানা তন্বি ও মাহমুদুল হাসান এবং তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তাসিন সিদ্দিকা। মানববন্ধন সঞ্চালনা করেন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবু সালেহ।
জুলাইয়ের পর এ রকম কোনো ঘটনার মুখোমুখি হতে হবে—এমনটি আশা করেননি জানিয়ে অধ্যাপক আ-আল মামুন বলেন, ‘এই ঘটনায় দুটি পক্ষ ফেসবুকে একে অপরকে মারার হুমকি দিয়ে আসছিল। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গত দুই দিনে প্রায় নিষ্ক্রিয় হয়ে বসে আছে এবং এই সুযোগে সহিংস ঘটনা ঘটেছে। আমাদের দাবি পরিষ্কার, যারা সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে খুব দ্রুত শাস্তির উপযুক্ত প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।’
শিক্ষকতার তিন দশকে সাংবাদিকদের ওপর কখনো এমন আঘাত দেখিনি—বলে মন্তব্য করেন অধ্যাপক মশিহুর রহমান। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে মামলা করে ফৌজদারি আইনের আওতায় শাস্তির ব্যবস্থা করুক।
সহযোগী অধ্যাপক কাজী মামুন হায়দার বলেন, ‘যে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সংস্কারের কথা বলতে চেয়েছিলাম, তার বদলে আরও ধ্বংস হয়েছে। সবশেষ গতকাল এখানে খেয়াল করলে দেখা যাবে, নির্দিষ্ট করে সাংবাদিকদের মারা হয়েছে।’
বিভাগের সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীরা যখন রক্তাক্ত, ব্যথায় কাতর, তখন আমাদের মানববন্ধনে দাঁড়াতে হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আমরা বিভাগের আজকে ক্লাস বর্জন করেছি। দুপুরে একাডেমিক কমিটির সভাও আহ্বান করা হয়েছে। সেখানে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।’
বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ফারজানা তন্বী বলেন, আজকের মধ্যে প্রশাসন যদি দৃষ্টান্তমূলক কোনো শাস্তির ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে আজকেই পদত্যাগ করা উচিত। যে প্রশাসনের সামনে শিক্ষার্থীদের মারে, সেখানে প্রশাসনের অস্তিত্ব নেই।