ফেনী সদর উপজেলায় যুবদলের কর্মী মোহাম্মদ হারুনুর রশিদের স্মরণসভায় বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আজ ফরহাদনগর ওমরিয়া ফারুকিয়া দাখিল মাদ্রাসা মাঠে
ফেনী সদর উপজেলায় যুবদলের কর্মী মোহাম্মদ হারুনুর রশিদের স্মরণসভায় বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আজ ফরহাদনগর ওমরিয়া ফারুকিয়া দাখিল মাদ্রাসা মাঠে

দেশে সেই অন্ধকার, দুঃসময়, দুর্দিন যেন না আসে: রিজভী

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী পুলিশ গুলি করে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের হত্যা করেছে। দেশে সেই অন্ধকার, দুঃসময় ও দুর্দিন যেন আবার না আসে, এটা মাথায় রেখে বিএনপির নেতা-কর্মীদের কাজ করতে হবে।’

আজ রোববার দুপুরে ফেনী সদর উপজেলায় যুবদলের কর্মী মোহাম্মদ হারুনুর রশিদের স্মরণসভায় উপস্থিত হয়ে তিনি এ কথা বলেন। উপজেলার ফরহাদনগর ইউনিয়নের ভোরবাজার এলাকায় ওমরিয়া ফারুকিয়া দাখিল মাদ্রাসা মাঠে এ স্মরণসভা হয়। তিনি এ সভার প্রধান অতিথি ছিলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘হারুন মারা গেছে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য। হারুন মারা গেছে একটা আদর্শের জন্য। হারুন ব্যাংকের টাকা পাচার করেনি, হারুন পদ্মা সেতুর টাকা আত্মসাৎ করেনি। হারুন মেট্রোরেলের টাকা আত্মসাৎ করেনি। শুধু কথা বলার জন্য, বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যে নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েছে, তার নাম হারুন।’

ফেনী জেলা বিএনপির আয়োজনে এ স্মরণসভা হয়। এর সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার। এতে আরও বক্তব্য দেন ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদীন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক ও ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম, নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহসম্পাদক ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার, আমরা বিএনপি পরিবারের সদস্যসচিব মোকসেদুল মোমিন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহগ্রামবিষয়ক সম্পাদক বেলাল আহমেদ, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য জালাল উদ্দিন মজুমদার, মশিউর রহমান প্রমুখ।

স্মরণসভা শেষে রুহুল কবির রিজভী হারুনের পরিবারের হাতে নতুন ঘরের চাবি ও আর্থিক সহায়তা তুলে দেন। এ সময় হারুনের স্ত্রী জোহরা আক্তার, বড় মেয়ে মাজেদা ও ছেলে তৌহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর ফেনী শহরের শহীদ শহিদুল্লা কায়সার সড়কে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন হারুনুর রশিদ। ওই দিন বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮–দলীয় জোটের অবরোধ ও হরতালের সমর্থনে একটি মিছিলে অংশ নিয়ে তিনি সেখানে যান। পরে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে পুলিশ গুলি চালালে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। তাঁর বয়স ছিল ৩৫ বছর।