
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে ব্রহ্মপুত্র নদের চরে বালু উত্তোলন নিয়ে গ্রামবাসীর সঙ্গে ছাত্রদল নেতা মুক্তার হোসেনের অনুসারীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এর জের ধরে গ্রামবাসী ছাত্রদলের নেতা–কর্মীদের সাতটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দিয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে সরকারি কলেজসংলগ্ন চরআলগী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ওই ঘটনার পর মুক্তার হোসেনকে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়কের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আজ রাতে ময়মনসিংহ জেলা দক্ষিণ ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা শাখার অধীন গফরগাঁও উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. মুক্তার হোসেনকে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হলো। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন আজ এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি কলেজসংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে জেগে ওঠা চরের জমি চরআলগী মৌজার বাসিন্দাদের। দীর্ঘদিন ধরে এই জমি থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল। এ নিয়ে একাধিকবার সংঘর্ষ হয়েছে। উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মুক্তার হোসেনের লোকজন চরআলগী মৌজায় ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন শুরু করেন। এ বিষয়ে বাসিন্দারা আপত্তি জানান। গতকাল বুধবার এ নিয়ে মুক্তার হোসেনের সঙ্গে স্থানীয় লোকজনের বাগ্বিতণ্ডা হয়।
ওই ঘটনার পর আজ বেলা সাড়ে তিনটার দিকে মুক্তার হোসেনের অনুসারীরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার সময় স্থানীয় নৌকার মাঝি ওয়াইজ উদ্দিনকে মারধর করেন এবং নৌকায় আগুন ধরিয়ে দেন। খবর পেয়ে গ্রামবাসী তাঁদের ধাওয়া দেন। এ সময় তাঁরা মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যান। সরকারি কলেজের সামনের সড়কে মুক্তার হোসেনের অনুসারীদের অন্তত সাতটি মোটরসাইকেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেন বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী।
স্থানীয় বাসিন্দা গফরগাঁও উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি আবদুল কাইয়ুম বলেন, মুক্তার নদীতে ড্রেজার বসিয়ে বালু তোলেন। এর ফলে নদীভাঙন হয়। এ নিয়ে গতকাল স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার সঙ্গে মুক্তারের কথা–কাটাকাটি হয়। এরপর আজ মুক্তার তাঁর লোকজন নিয়ে একজন মাঝিকে মারধর ও নৌকা পুড়িয়ে দেন। এতে লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁদের দৌড়ানি দিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে মুক্তার হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুর রহমান বলেন, ‘ব্রহ্মপুত্রের বালু নিয়ে দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধে ছয়-সাতটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মুক্তার ও তাঁর লোকজনকে সেখানে গিয়ে আমরা পাইনি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। কোনো পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া যায়নি।’