নাটোরের লালপুরে মাদক ব্যবসা ও হ্যাকিংয়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার ৬ জন
নাটোরের লালপুরে মাদক ব্যবসা ও হ্যাকিংয়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার ৬ জন

সড়ক–বাড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা: হ্যাকার ওহিদুলসহ ৬ আসামি কারাগারে

নাটোরে গ্রেপ্তার এড়াতে পুলিশের ওপর নজরদারি করার জন্য গ্রামের প্রধান সড়ক থেকে নিজ বাড়ি পর্যন্ত ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো ওহিদুল মোল্লাসহ ছয় আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে হাজির করা হলে লালপুর আমলি আদালতের বিচারক সাদ্দাম হোসেন তাঁদের সবাইকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। রাত ৯টার দিকে তাঁদের নাটোর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

নাটোরে হ্যাকিং কার্যক্রম ও মাদক ব্যবসার অভিযোগে করা মামলায় আলামিন (২৩) নামের এক পুলিশ কনস্টেবলসহ ওই ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা সবাই ওহিদুল মোল্লার সহকারী বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আলামিন রাজশাহী রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্সের (আরআরএফ) কনস্টেবল। তাঁকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আরআরএফ রাজশাহীর কমান্ড্যান্ট (অতিরিক্ত ডিআইজি) দীন মোহাম্মদ।

লালপুর থানার পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল ভোরে উপজেলার বিলমাড়িয়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে হ্যাকিং কার্যক্রম চালানোর অভিযোগে ওহিদুল মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে গ্রেপ্তারের সময় আলামিনসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে ১০৬টি ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় হ্যাকিং কার্যক্রম ও মাদক ব্যবসার অভিযোগে দুটি পৃথক মামলা হয়েছে।

পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার এড়াতে নজরদারির জন্য গ্রামের প্রধান সড়ক থেকে নিজ বাড়ি পর্যন্ত ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়েছিলেন ওহিদুল মোল্লা। হ্যাকিংয়ের কাজে সাতটি মুঠোফোনে অদলবদল করে ৬৮টি সিম ব্যবহার করতেন তিনি। ঘুমানোর জন্য কবুতরের ঘরের মধ্যে বিছানা তৈরি করেছিলেন। সেখানে সিসিটিভি মনিটর, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্রসহ বিভিন্ন সুবিধা ছিল।

থানায় জিজ্ঞাসাবাদের সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর জানা যায়, গ্রেপ্তার ছয়জনের মধ্যে আলামিন একজন পুলিশ কনস্টেবল। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করা হয়।

লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, আলামিন লালপুর উপজেলার দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নের পানসিপাড়া গ্রামের আতাহার প্রামাণিকের ছেলে। তিনি রাজশাহী আরআরএফের সদস্য।

গ্রেপ্তার এড়াতে নজরদারির জন্য গ্রামের প্রধান সড়ক থেকে নিজ বাড়ি পর্যন্ত ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়েছিলেন ওহিদুল মোল্লা। ঘুমানোর জন্য কবুতরের ঘরের মধ্যে বিছানা তৈরি করেছিলেন। সেখানে সিসিটিভি মনিটর, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্রসহ বিভিন্ন সুবিধা ছিল।

পানসিপাড়া গ্রামের ইউপি সদস্য আলতাব হোসেন বলেন, আলামিনকে গ্রেপ্তারের কথা তিনি শুনেছেন। তিনি কৃষক পরিবারের সন্তান এবং প্রায় পাঁচ বছর আগে পুলিশে চাকরি পেয়েছেন। তবে তিনি মাদক ব্যবসা বা হ্যাকিংয়ের সঙ্গে জড়িত কি না, তা বলতে পারেন না।

আরআরএফ রাজশাহীর কমান্ড্যান্ট দীন মোহাম্মদ বলেন, নাটোর জেলা পুলিশের কাছ থেকে আলামিনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি জেনেছেন। জেলা পুলিশ লিখিতভাবে বিষয়টি জানালে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রম শুরু করা হবে।