বিএনপির লোগো
বিএনপির লোগো

মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সদস্যসচিবের বিরুদ্ধে অনাস্থা, অব্যাহতি দাবি

মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আব্দুর রহিমের (রিপন) বিরুদ্ধে লিখিত অনাস্থা প্রকাশ করেছেন আহ্বায়ক কমিটির সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সমন্বয়হীনতা, আর্থিক অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে তাঁকে দল থেকে অব্যাহতির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। এ বিষয়ে তাঁরা দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন।

৭ মার্চ দলের মহাসচিব বরাবর পাঠানো চিঠিতে আহ্বায়ক কমিটির ২৬ জন স্বাক্ষর করেছেন। তাঁদের মধ্যে আছেন আহ্বায়ক কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য আব্দুল মুকিত, মিজানুর রহমান, আব্দুল ওয়ালী সিদ্দিকী, সুনীল কুমার দাস, মোয়াজ্জেম হোসেন মাতুক, মোশারফ হোসেন বাদশা, আসিক মোশারফ, বকশী মিছবাহ উর রহমান, হেলু মিয়া, ফখরুল ইসলাম, স্বাগত কিশোর দাস চৌধুরী, বকশী জুবায়ের আহমদ, মুহিতুর রহমান হেলাল, মনোয়ার আহমেদ রহমান প্রমুখ।

ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, তিনি (সদস্যসচিব আব্দুর রহিম) আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আঁতাত করে ব্যবসা-বাণিজ্য করেছেন। তাঁর ভাই ঢাকা উত্তরার দক্ষিণখান ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি এখনো আওয়ামী লীগের নেতাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন বলে সর্বজনবিদিত। ইতিমধ্যে তিনি জেলার মিনিবাস টার্মিনাল নিজের ব্যক্তিগত দখলে নিয়েছেন এবং এলাকায় চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে ৫ আগস্ট–পরবর্তী সময়ে মানুষকে আসামি করে মামলা–বাণিজ্যের অভিযোগ আছে। আওয়ামী লীগের জেলা পর্যায়ের নেতাদের পলায়নের সুযোগ করে দিয়ে অনেক টাকার মালিক হয়েছেন। সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি রহস্যজনক ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি দায়িত্ব নিয়েও কোনো কাজ করেননি। সদস্যসচিব জেলার জ্যেষ্ঠ নেতাদের ন্যূনতম সম্মান প্রদর্শন করেন না। একজনের সঙ্গে আরেকজনের বিরোধ সৃষ্টি করে চলেছেন। এসব কারণে জেলা বিএনপির আহ্বায়কের কাছে জেলা কমিটির একটি সভা আহ্বানের জন্য লিখিতভাবে অনুরোধ করা হলেও শেষ পর্যন্ত সভা হয়নি।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য বকশী মিছবাহ উর রহমান আজ বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘বর্তমানে কমিটিতে সদস্যসংখ্যা ৩৩। এর মধ্যে আমরা ২৬ জন দস্তখত দিয়েছি। আমি মনে করি, যেহেতু এই সদস্যসচিবের বিষয়ে সবার অনাস্থা; এখন নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হলে জেলা বিএনপির জন্য ভালো হবে। তাঁর বিরুদ্ধে যেহেতু অভিযোগ উঠেছে, আশা করছি দলের হাইকমান্ড এ বিষয়ে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

বিএনপি জেলা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান আজ বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রথমেই আমরা ১৯ জন তাঁর বিষয়ে লিখিতভাবে জানিয়েছিলাম। এখন তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ আসছে। এখন প্রায় সবাই তাঁর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। দেখা যাক, কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’

দলীয় সূত্রে জানা যায়, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম (ময়ূন) ও সদস্যসচিব আব্দুর রহিম বর্তমানে ওমরাহ পালন করতে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। হোয়াটসঅ্যাপে আব্দুর রহিমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে আহ্বায়ক ফয়জুল করিম বলেন, ‘আমি তো ওমরাহ করতে এসেছি। লিখিত অভিযোগ দেখিনি। দেখার পর এ বিষয়ে কথা বলা যাবে।’