চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ওএমআরে ত্রুটি, আবার যাচাই হচ্ছে ফল

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার ‘এ’ ইউনিটের ফলাফল পুনরায় যাচাই করা হচ্ছে। এ কারণে প্রকাশিত ফলাফলের মেধাক্রম পরিবর্তন হতে পারে । ওএমআরের (উত্তরপত্র) ত্রুটি ধরার পর এ সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

আজ শনিবার বেলা দুইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক সাইদুর রহমান প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘যাচাই শেষে আগামীকালের মধ্যেই সংশোধিত ফল প্রকাশ করা হতে পারে।’

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, চলতি ৭ জানুয়ারি ‘এ’ ইউনিটের ফল প্রকাশ হয়। ফল প্রকাশের পর থেকেই একাধিক ভর্তি পরীক্ষার্থী এ ফলে অনিয়ম হয়েছে, এমন অভিযোগ করেন। এসব অভিযোগের পর ১৪ জানুয়ারি ডিনদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন উপাচার্য। পরে দ্বিতীয় দফায় গত বৃহস্পতিবার দুই সহ-উপাচার্য, ডিন, ভর্তি পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব এস এম আকবর হোছাইনকে নিয়ে বৈঠক করেন উপাচার্য। এ বৈঠকে আইসিটি সেলের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক সাইদুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকেই ফলাফল যাচাইয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।

আইসিটি সেল সূত্র জানায়, সাধারণত ওএমআরে বৃত্তগুলো নির্দিষ্ট মাপ ও দূরত্বে থাকে। তবে প্রাথমিক যাচাইয়ে ‘এ’ ইউনিটের ১৭টি ওএমআরে এসব বৃত্তের মাপে তারতম্য পাওয়া গেছে। এ কারণে বাকি ওএমআরগুলো যাচাই করা হচ্ছে। এসব যাচাইয়ের পর পুনরায় ফল প্রকাশ করা হবে। আপাতত ফল স্থগিত রাখা হয়েছে। যাচাই শেষ হলে শিক্ষার্থীরা তাঁদের ফল ওয়েবসাইটে দেখতে পারবেন।

জানতে চাইলে আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক সাইদুর রহমান বলেন, আশানুরূপ ফল হয়নি, শিক্ষার্থীদের এমন অভিযোগ পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা পরিচালনা কমিটি দুই দফা বৈঠক করেছে। এ অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিটি ওএমআর আলাদা করে যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ফল যাচাইয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে সহ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান বলেন, ‘এ’ ইউনিটের ফলাফলের চূড়ান্ত প্রতিবেদন এখনো তাঁর কাছে আসেনি। ফলাফলে কোনো সংশোধন এলে মেধাতালিকায় পরিবর্তন আসতে পারে।

‘এ’ ইউনিট গঠিত হয়েছে বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, প্রকৌশল ও মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজ অনুষদ নিয়ে। এতে মোট আসন রয়েছে ১ হাজার ৯৩টি। এতে পরীক্ষা দিয়েছিলেন ৭৯ হাজার ৪১০ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ৪১ হাজার ৬০৯ জন পাস ও ৩৭ হাজার ৮০১ জন ফেল করেছেন। সে হিসাবে পাসের হার প্রায় ৫২ শতাংশ।