সুনামগঞ্জে টিসিবির পণ্য কিনছে নিম্ন আয়ের মানুষ। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে
সুনামগঞ্জে টিসিবির পণ্য কিনছে নিম্ন আয়ের মানুষ। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে

সুনামগঞ্জে দেরিতে এল টিসিবির ট্রাক, প্রচার না থাকায় জানতে পারেনি অনেকে

নির্ধারিত সময়ের আড়াই ঘণ্টা পর টিসিবির পণ্যবাহী ট্রাক পৌঁছায় পাগলাবাজারে। আগাম প্রচার না থাকায় অনেকেই জানতে পারেননি বিক্রির খবর; কেউ এসে টাকা জোগাড় করতে না পেরে আফসোস করেছেন, কেউ আবার ধার করে পণ্য কিনেছেন। ট্রাক আসার পর সেটিকে ঘিরে শুরু হয় তাড়াহুড়া ও কাড়াকাড়ি।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাগলাবাজারে এ দৃশ্য দেখা যায়। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) সেখানে ভর্তুকিমূল্যে পণ্য বিক্রি করছিল। পবিত্র রমজান উপলক্ষে জেলার ১২টি উপজেলায় পালাক্রমে ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে এসব পণ্য কম দামে বিক্রি করা হচ্ছে। একজন ক্রেতা দুই লিটার সয়াবিন ২৩০ টাকা, দুই কেজি মসুর ডাল ১৪০ টাকা, এক কেজি ছোলা ৬০ টাকা, এক কেজি চিনি ৮০ টাকা এবং আধা কেজি খেজুর ৮০ টাকায় কিনতে পারছেন। পাঁচ ধরনের নিত্যপণ্যের জন্য মোট দিতে হচ্ছে ৫৯০ টাকা। প্রতিদিন একজন ডিলার ৪০০ জনের কাছে এসব পণ্য বিক্রি করেন। সুনামগঞ্জ জেলায় প্রতিদিন (ছুটির দিন বাদে) দুই হাজার ব্যক্তির কাছে টিসিবির পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে।

সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের পাশে পাগলাবাজারে বৃহস্পতিবার বেলা দুইটায় পণ্য বিক্রি শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে ট্রাকে করে পণ্য আনা হয় বিকেল সাড়ে চারটায়। এর আগে সেখানে খুব বেশি মানুষ জড়ো হননি। এখানে টিসিবির পণ্য বিক্রি হবে—এটি আগে থেকে প্রচার করা হয়নি। ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা বিষয়টি জানতেন। তাঁরাই কিছু লোককে বলে রেখেছিলেন বলে জানা যায়।

বাজারের উত্তর মাথায় পশ্চিম পাগলা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়। সেখানে পণ্য নিয়ে ট্রাক আসার পরই মানুষ জড়ো হয়ে যান। সাত-আটজন নারী ও শিশু ছাড়া উপস্থিত সবাই ছিলেন পুরুষ। তখন সেখানে থাকা দুজন শ্রমিক কম দামে পণ্য বিক্রির কথা জানতে পেরে আফসোস করেন। তাঁদের একজন বলেন, ‘ওখন ৫৯০ টাকা পাইতাম কোয়াই। আগে জানলে ত টেকা জোগার করতাম। আমরা ত মনে করছি রিলিফ দিব।’

ডিলার রুবেল আহমদ বলেন, স্থান নির্ধারণের বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে করা হয়। তাঁরা শুধু পণ্য নিয়ে এসে বিক্রি করেন। দেরিতে পণ্য আনার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, পণ্য উত্তোলন করতে হয় মৌলভীবাজার জেলার শেরপুর এলাকায় থাকা টিসিবির আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে। সুনামগঞ্জ থেকে এর দূরত্ব ১৪০ কিলোমিটার। সকালে ট্রাক নিয়ে সেখানে যান তাঁর লোকজন। পণ্য উত্তোলন করে নিয়ে আসা এবং সেগুলো আলাদাভাবে মেপে প্যাকেট করতে অনেক সময় লাগে। তাই সময়মতো আসা যায়নি।

এর মধ্যে ট্রাকের ওপর থেকে কয়েকজন পণ্য বিক্রি শুরু করেন। ট্রাকের পাশে ও পেছন থেকে সবাই টাকা দিয়ে পণ্য নিতে হাত বাড়াতে থাকেন। চারদিক থেকে তাড়াহুড়া শুরু হলে কার্যালয় থেকে বেরিয়ে আসেন ইউপি চেয়ারম্যান জগলুল হায়দার। তিনি নিজে মানুষকে সামাল দেন। তাঁর চেষ্টায় পরে সারিবদ্ধভাবে সবাই পণ্য কেনেন। ইফতারের আগমুহূর্ত পর্যন্ত সেখানে বিক্রি চলে।

স্থানীয় ইসলামপুর গ্রামের বাসিন্দা আতাউর রহমান বলেন, ‘আগে জানি না। এখন একজনের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়া জিনিস কিনছি। বেশ লাভ অইছে মনে অয়।’ পাগলার এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ওখন ইফতারের সময় মাল লইয়া আইছে। আগে আইল ত এত ঝামেলা অইত না।’ রায়পুর গ্রামের নূর বেগম (৫০) বলেন, তাঁকে ইউপি সদস্য জানালে গ্রামের আরও দুজনকে নিয়ে তিনি সেখানে যান। প্রথমে এলোমেলো পরিবেশ থাকলেও পরে পণ্য কিনতে পেরে তাঁরা খুশি।

ইউপি চেয়ারম্যান জগলুল হায়দার বলেন, ‘সমস্যা হলো মানুষ অযথাই বিশৃঙ্খলা করে। সবাই আগে নিতে চায়। আমি নিজে থেকে শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে কাজ শেষ করে দিয়েছি।’

টিসিবির সিলেট অঞ্চলের আঞ্চলিক কর্মকর্তা সোহেল রানা বলেন, তাঁরা সুনামগঞ্জে প্রতিদিন দুই হাজার মানুষের কাছে টিসিবির পণ্য বিক্রি করছেন। স্থানীয় প্রশাসন থেকে বিষয়টি তদারক করা হচ্ছে। মানুষ প্রতিদিন পাঁচ ধরনের নিত্যপণ্য কম দামে পাচ্ছেন।