গুলি
গুলি

মানব পাচারকারীদের আস্তানায় দুই পক্ষের গোলাগুলি, তরুণী নিহত

কক্সবাজারের টেকনাফের বাহারছড়ায় গুলিতে এক তরুণী নিহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় পাহাড়ে থাকা সন্ত্রাসীদের সঙ্গে মানব পাচার চক্রের সদস্যদের গোলাগুলির সময় ওই তরুণী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আজ শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালীয়া পাড়ার পাহাড়ের পাদদেশে এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

নিহত তরুণীর নাম সুমাইয়া আক্তার (১৮)। তিনি নোয়াখালীয়া পাড়ার বাসিন্দা মো. ছিদ্দিকের মেয়ে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় রাতে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

কক্সবাজার জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) অলক বিশ্বাস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। আজ রাত সোয়া আটটায় তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সমুদ্র উপকূলীয় বাহারছড়া এলাকাটি মানব পাচারকারী চক্রের প্রধান ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। সন্ধ্যায় মানব পাচার চক্রের সদস্যদের সঙ্গে পাহাড়ে থাকা সন্ত্রাসীদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। গুলিতে সুমাইয়ার মৃত্যু হয়। তিনি বলেন, সন্ত্রাসী ও মানব পাচারকারীদের ধরতে পাহাড়ে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. ইলিয়াছ বলেন, সাগরপথে মালয়েশিয়া পাচারের জন্য মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যরা কিছু লোকজনকে পাহাড়ের আস্তানায় জড়ো করে রাখেন। খবর পেয়ে পাহাড়ে থাকা সন্ত্রাসীরা ওই আস্তানায় হানা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। গোলাগুলির শব্দ শুনে পার্শ্ববর্তী ঘরবাড়ির লোকজন পালাতে থাকেন। এ সময় সুমাইয়াও ঘর থেকে বের হলে গুলিবিদ্ধ হন।

টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নওশাদ আলম বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই ওই তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। তাঁর শরীরে দুটি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম রাত সাড়ে আটটায় বলেন, গুলিবিদ্ধ তরুণীর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।