
রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) ভবনে পুলিশের উপস্থিতিতে দরপত্র বাক্স ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কয়েক মিনিটের মধ্যে একই ভবনের চারতলা থেকে বাক্সটি উদ্ধার করা হয়। আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
একপর্যায়ে আরডিএ ভবনের সামনে ওই যুবকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। পরে আজ দুপুর পর্যন্ত ভবনটির সামনে উত্তেজনা দেখা গেছে।
সিসিটিভি ফুটেজে ওই যুবকদের মধ্যে নগরের ১৮ নম্বর ওয়ার্ড উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মামুন, একই ওয়ার্ডের যুবদলের আহ্বায়ক মুন্না, যুবদল নেতা তৌফিক ও সাগর এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা শরিফকে দেখা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, ২০–২৫ জনের একটি দল হঠাৎ ভবনটিতে এসে বাক্সটি নিয়ে যায়। তাঁরা স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
আরডিএ সূত্র জানায়, ২০ এপ্রিল কয়েকটি পরিত্যক্ত ও ব্যবহার অযোগ্য মালামাল নিলামে বিক্রির জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। আজ ছিল দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। বেলা একটায় দরপত্র জমা নেওয়া শেষ হওয়ার কথা ছিল এবং বেলা আড়াইটায় বাক্স খোলার সময় নির্ধারিত ছিল। নিলামে আরডিএ মার্কেটের ব্যবহার অযোগ্য মালামাল, আরডিএ পার্কের গাছ, শিরোইল বাস টার্মিনালের পুরোনো বিলবোর্ডের মালামাল এবং ঢাকার লিয়াজোঁ অফিস-কাম-রেস্ট হাউসের কিছু ব্যবহার অযোগ্য সামগ্রী অন্তর্ভুক্ত ছিল।
আরডিএ সূত্রে জানা গেছে, নিলামের প্রায় ৪০০টি শিডিউল বিক্রি হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, নিলাম হওয়া মালামালের মোট মূল্য দুই লাখ টাকার মতো হতে পারে।
আরডিএর সহকারী প্রকৌশলী শেখ কামরুজ্জামান বলেন, দরপত্র বাক্সটি পুলিশের পাহারায় ছিল। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে কিছু উচ্ছৃঙ্খল যুবক এসে পুলিশের কাছ থেকে জোর করে বাক্সটি নিয়ে যান। পরে দুই মিনিটের মধ্যে ভবনের চারতলায় বাক্সটি রেখে চলে যান তাঁরা। এ ঘটনার পর অতিরিক্ত পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। এরপর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পরে তাঁরা বেলা আড়াইটার দিকে বাক্স খোলেন। দরপত্র বাতিল হবে কি না, তা পরবর্তীকালে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র উপকমিশনার (মিডিয়া) মো. গাজিউর রহমান বলেন, এ ঘটনায় আরডিএ কর্তৃপক্ষ অভিযোগ দিলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মীর তারেক বলেন, তিনি ঘটনাটি শুনেছেন। সংগঠনটির কেউ এতে জড়িত থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।