অসুস্থ জামাল উদ্দিনকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছেন ভাতিজি ইসমত আরা। সম্প্রতি টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কালমেঘা গ্রামে
অসুস্থ জামাল উদ্দিনকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছেন ভাতিজি ইসমত আরা। সম্প্রতি টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কালমেঘা গ্রামে

সখীপুরে রাস্তায় রেখে যাওয়া অসুস্থ জামালের চিকিৎসায় চাঁদা তুলছেন গ্রামবাসী

টাঙ্গাইলের সখীপুরে জামাল উদ্দিন নামের অসুস্থ এক ব্যক্তিকে রাতের অন্ধকারে গ্রামের রাস্তায় ফেলে যাওয়ার অভিযোগ ওঠার পর তাঁর চিকিৎসার উদ্যোগ নিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরা চাঁদা তুলে তাঁকে হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। উপজেলা প্রশাসনও চিকিৎসাসহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।

উপজেলার কালমেঘা গ্রামের ঝুট ব্যবসায়ী এনাম হাসান আজ মঙ্গলবার সকালে প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, সকাল থেকে মুষলধারে বৃষ্টি হওয়ায় অর্থ সংগ্রহে কিছুটা বিঘ্ন ঘটছে। তবে বিকেলের মধ্যে জামাল উদ্দিনকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পরিকল্পনা আছে। পরে প্রয়োজন হলে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।

সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল আলম আজ বেলা ১১টার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, বিষয়টি পারিবারিক হলেও একজন অসুস্থ মানুষকে মানবিক সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে ওই ব্যক্তির স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে তাঁর চিকিৎসার জন্য সাধ্যমতো সহযোগিতা করা হবে।

গত শনিবার রাতে জামাল উদ্দিনকে পৈতৃক ভিটাসংলগ্ন সড়কে রেখে যাওয়া হয়। জামালের ভাই আবদুল জলিলের ভাষ্য, প্রায় ২২ বছর আগে জামাল সখীপুরের পৈতৃক ভিটাসহ সম্পত্তি বিক্রি করে স্ত্রী রিনা আক্তারকে নিয়ে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বাঁশবাড়ি এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস শুরু করেন। পরে তিনি সৌদি আরবে যান এবং প্রায় ১২ বছর সেখানে ছিলেন। বিদেশে উপার্জিত অর্থের প্রায় সবই তিনি স্ত্রীর কাছে পাঠিয়েছেন। প্রায় তিন মাস আগে ভাই অসুস্থ হয়ে দেশে ফেরার পর থেকে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছেন না। তবে তাঁর চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে স্ত্রী ও সন্তানেরা অনীহা দেখান। পরে তাঁকে গভীর রাতে গ্রামের রাস্তায় ফেলে রেখে যাওয়া হয়।

জামালের স্বজনদের অভিযোগ, তাঁর স্ত্রী রিনা আক্তার এ কাজ করেছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেছেন, প্রায় আড়াই মাস আগে তিনি জামালকে তালাক দিয়েছেন। বর্তমানে জামাল তাঁর স্বামী নন। তাই তাঁকে গাড়িতে করে সখীপুরে তাঁর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বর্তমানে জামাল তাঁর ভাতিজি ইসমত আরার বাড়িতে আছেন। তিনি চাচাকে রাস্তা থেকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান।