নরসিংদীর পলাশ উপজেলার কো-অপারেটিভ জুট মিলস পরিদর্শন করেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম। আজ মঙ্গলবার
নরসিংদীর পলাশ উপজেলার কো-অপারেটিভ জুট মিলস পরিদর্শন করেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম। আজ মঙ্গলবার

বন্ধ টেক্সটাইল ও জুটমিল পুনরায় সচলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে: বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম বলেছেন, দেশের সব বন্ধ টেক্সটাইল ও জুটমিল পুনরায় চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরায় সচল করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বেসরকারি খাতে এই প্রতিষ্ঠানগুলো হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান। ইতিমধ্যে কয়েকটি শিল্পকারখানার ইজারার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া চলছে।

আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে নরসিংদীর পলাশ উপজেলার কো-অপারেটিভ জুট মিলস পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা জানান। এরপর তিনি ঘোড়াশালের বাংলাদেশ জুট মিলস পরিদর্শনে যান।

বন্ধ মিলগুলো আবার চালুর বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বন্ধ মিলগুলো পুনরায় চালুর উদ্দেশ্যে ইতিমধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং প্রাথমিক ইওআই সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে এসব প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করছে। সরকার মূলত পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) বা বেসরকারি শিল্পোদ্যোক্তাদের মাধ্যমে মিলগুলো পরিচালনা করতে আগ্রহী। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই শিল্পাঞ্চলগুলোকে পুনরায় সচল করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে দেশের অর্থনীতিতে গতি আসে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, একসময় নরসিংদীর এসব শিল্পকারখানায় হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান ছিল এবং এটি এলাকাবাসীর আবেগের বিষয় ছিল। পুনরায় মিলগুলো চালু হলে স্থানীয় পর্যায় থেকে সাধারণ কর্মীদের জন্য প্রায় শতভাগ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে। তবে কারিগরি বা বিশেষজ্ঞ পদে প্রয়োজন হলে বাইরে থেকে লোক নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। এই উদ্যোগ স্থানীয়দের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম বলেন, সোনালি আঁশের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে পাটবীজের মানোন্নয়ন ও গবেষণার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষত প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা বীজের তুলনায় দেশি বীজের ফলন যাতে প্রতিযোগিতামূলক হয়, সে লক্ষ্যে বাংলাদেশ জুট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (BJRI) সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া পাটচাষিরা যাতে পাটের ন্যায্য মূল্য পায় সেদিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে পাটের দাম মণপ্রতি পাঁচ হাজার টাকায় উন্নীত হয়েছে, যা আগে তিন হাজার টাকা ছিল।

বিগত সময়ে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের অধীনে বিভিন্ন কারখানায় লুটপাট বা অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করা হলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি সম্পদ হস্তান্তরের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অসামঞ্জস্য বা অনিয়ম পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই সময় উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সুব্রত শিকদার, যুগ্ম সচিব হাফসা বেগম, উপসচিব সাইফুল ইসলাম ও শাহদৎ হোসেন কবির এবং বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) চেয়ারম্যান কবির উদ্দিন শিকদার।