বিজয়ের মাসে ৩০০ কিলোমিটার পদযাত্রা শুরু করেছেন ময়মনসিংহের বীর মুক্তিযোদ্ধা বিমল পাল। আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ সার্কিট হাউস মাঠের বঙ্গবন্ধু চত্বর থেকে এ পদযাত্রার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অসাম্প্রদায়িকতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে তিনি আগামী ১০ দিন জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এই পদযাত্রা করবেন।
সন্ধ্যায় পদযাত্রার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধার বিজয় পদযাত্রা সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক শংকর সাহা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) পুলক কান্তি চক্রবর্তী, ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাল্গুনী নন্দী, ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ কামাল আকন্দ, মহিলা পরিষদ ময়মনসিংহ জেলা শাখার সভাপতি মনিরা সুলতানা, কবি ইয়াজদানী কোরায়শী, আইনজীবী মতিউর রহমান ফয়সাল প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বিমল পালের হাতে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়ে এ পদযাত্রার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পুলক কান্তি চক্রবর্তী। পরে উপস্থিত অতিথিদের নিয়ে বিমল পাল তাঁর পদযাত্রা শুরু করেন। কাল শুক্রবার শুরু হবে মূল পদযাত্রা।
কাল শুক্রবার ভোরে ময়মনসিংহ শহীদ মিনার থেকে হাঁটা শুরু করবেন বিমল পাল। এরপর ১০ ডিসেম্বর আবারও ময়মনসিংহ নগরের সার্কিট হাউস মাঠের বঙ্গবন্ধু চত্বরে এসে সমাপ্তি হবে। এর মধ্যে তিনি ময়মনসিংহের ১৩টি উপজেলা এবং নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর উপজেলা মিলিয়ে মোট ৩০০ কিলোমিটার হাঁটবেন।
বিমল পাল প্রথম আলোকে বলেন, সারা দেশের মানুষের কাছে অসাম্প্রদায়িকতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে তিনি বিজয়ের মাসে এ পদযাত্রার উদ্যোগ নিয়েছেন। এর আগে ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর তিনি হালুয়াঘাট উপজেলা থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার পদযাত্রা করেন। ময়মনসিংহের বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের অসংখ্য তরুণ তাঁর সঙ্গে পদযাত্রায় যোগ দেন।
বিমল পাল বলেন, ৩০০ কিলোমিটার হাঁটার জন্য আরও এক মাস আগে থেকেই তিনি প্রস্তুতি শুরু করেছেন। প্রতিদিন অন্তত ৩০ কিলোমিটার হাঁটছেন। এ ছাড়া সুষম খাবার ও নিয়মিত ঘুমের ওপর তিনি বিশেষ নজর রাখছেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধার বিজয় পদযাত্রার সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিমল পালের ১০ দিনব্যাপী এ হাঁটায় বিভিন্ন উপজেলায় তিনি রাত যাপন করবেন। ইতিমধ্যে সব কটি উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে সহযোগিতা ও নিরাপত্তার জন্য বলা হয়েছে।