বরিশাল বিমানবন্দর থানার এএসআই দেলোয়ার হোসেন
বরিশাল বিমানবন্দর থানার এএসআই দেলোয়ার হোসেন

মাদক সেবনের আসর থেকে আটক এএসআই থানায় নেই, পুলিশ বলছে ছুটিতে

বরিশালে মাদক সেবনের আসর থেকে আটক পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) দেলোয়ার হোসেন (৩৮) থানায় নেই। তিনি থানা থেকে পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশ বলছে, তিনি ছুটিতে আছেন।

আটক দেলোয়ার বরিশাল নগরের বিমানবন্দর থানায় কর্মরত। তিনি খুলনা সদরের শেরেবাংলা রোড এলাকার বাসিন্দা।

গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ কড়াপুর গ্রামের একটি বাড়িতে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে এএসআই দেলোয়ারসহ চারজনকে আটক করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এ সময় সেখান থেকে ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

অভিযানের নেতৃত্ব দেন ডিএনসি পরিদর্শক মো. জাহিদুল ইসলাম। তিনি গতকাল জানান, আটক চারজনের মধ্যে দেলোয়ারকে বিমানবন্দর থানার ওসির জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। অন্য তিনজনের মধ্যে বাড়ির মালিক মিরাজুল ইসলাম (৩৪) ও এক নারীর ডোপ টেস্টে মাদক গ্রহণের প্রমাণ পাওয়ায় তাঁদের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নেওয়া হয়। আদালত তাঁদের ২০ দিনের কারাদণ্ড দেন। এ ছাড়া নাহিদ হাসান (২৬) নামের এক যুবকের ডোপ টেস্টের ফল নেগেটিভ হওয়ায় আদালত তাঁকে ছেড়ে দেন।

ডিএনসি বরিশালের উপপরিচালক তানভীর হোসেন খান গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানোর কথা নিশ্চিত করেন। ডিএনসি সূত্র জানায়, মিরাজুলের বাড়িতে মাদক সেবনের সরঞ্জাম পাওয়ার পর চারজনকে আটক করা হয়।

থানা সূত্র জানায়, এএসআই দেলোয়ারকে থানায় নেওয়ার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে তিনি থানা থেকে বেরিয়ে যান। এরপর আর ফেরেননি। এ কারণেই তিনি পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, মিরাজুলের সঙ্গে দেলোয়ারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তিনি প্রায়ই মিরাজুলের বাড়িতে যাতায়াত করতেন, কখনো কখনো রাতও কাটাতেন বলে অভিযোগ আছে।

পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম। আজ শুক্রবার দুপুরে প্রথম আলোকে তিনি বলেন, তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

থানা হেফাজত থেকে পালানোর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘তিনি ছুটিতে আছেন। পালিয়ে যাবেন কোথায়? তাঁকে চাকরি করতে হলে আসতে হবে।’

এর আগে গতকাল ওসি জানিয়েছিলেন, দেলোয়ারের ডোপ টেস্টের প্রস্তুতি চলছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তাঁর বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ, তিনি অনুমোদন ছাড়া কর্মস্থলের বাইরে অবস্থান করছিলেন।