রাতের আঁধারে কাটা হয়েছে সরকারি টিলা। গত শনিবার চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পুটিবিলা ইউনিয়নে
রাতের আঁধারে কাটা হয়েছে সরকারি টিলা। গত শনিবার চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পুটিবিলা ইউনিয়নে

লোহাগাড়ায় রাতের আঁধারে টিলা কেটে মাটি বিক্রি

টিলাটির উচ্চতা প্রায় ৩০ ফুট। ফলদ, বনজ, ভেষজ গাছগাছালি আর লতাপাতা-গুল্মে ভরা টিলাটি যেন পাখিদের আশ্রয়স্থল। লোকালয় থেকে দূরে নির্জন এলাকায় অবস্থিত এই টিলা এখন ধাপে ধাপে কেটে ফেলা হচ্ছে। রাতের আঁধারে এক্সক্যাভেটর দিয়ে কেটে বিক্রি হচ্ছে টিলার মাটি।

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পুটিবিলা ইউনিয়নে অবস্থান এই টিলাটির। এটি স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘কালুনির বর পাহাড়’ নামে। সরকারি এ টিলাটি অবস্থিত প্রায় তিন একর জায়গাজুড়ে। তবে এরই মধ্যে এর প্রায় ২০ শতক কেটে ফেলা হয়েছে।

লোহাগাড়া উপজেলা সদর থেকে দরবেশ হাট ডিসি সড়ক ধরে ৮ কিলোমিটার দক্ষিণে পুটিবিলা এম চর হাট বাজার। সেখান থেকে একই সড়ক ধরে পূর্ব দিকে ৫ কিলোমিটার এগুলোই গজালিয়া দিঘির পাড় এলাকা। ওই এলাকা থেকে পহর চাঁন্দা সড়ক নামে একটি গ্রামীণ ইটের সড়ক ধরে দুই কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে গেলেই পহর চাঁন্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের ১০০ মিটার আগে সেকান্দার পাড়া সড়ক নামে একটি সরু কাঁচা সড়ক দক্ষিণ দিকে গেছে। ওই সড়ক ধরে ৮০০ মিটার এগুলোই চিকন ঘোণা এলাকায় টিলাটির দেখা মেলে।

গত শনিবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টিলাটির আশপাশে কোনো বসতি নেই। তবে টিলার পাদদেশে অন্তত ৮টি মাছের খামার আছে। টিলাটির দক্ষিণ পাশে এক্সক্যাভেটর দিয়ে মাটি কাটার চিহ্ন রয়েছে। কেটে নেওয়া কিছু গাছপালাও সেখানে পড়ে আছে।

বাসিন্দারা নাম জানান, সরকারি টিলাটি স্থানীয় আবদুস সালাম নামের এক ব্যক্তির দখলে ছিল। বর্তমানে সেটি পহর চাঁন্দা গ্রামের বাসিন্দা আবছার উদ্দিন নামের আরেক ব্যক্তির দখলে রয়েছে। টিলার পাশের খামারগুলো পরিচালনা করেন আবছার উদ্দিন।

প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, প্রায় এক বছর ধরে ধাপে ধাপে রাতের আঁধারে টিলাটি কাটা হচ্ছে। আবছার উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে টিলাটি কাটা হচ্ছে এক মাস ধরে। সাধারণত রাত ১২টার পর টিলার মাটি কেটে বিক্রি করা হয়। ভিটেবাড়ি ভরাট ও স্থাপনা নির্মাণের জন্য অনেকেই এসব মাটি কিনে নিয়ে যান।

জানতে চাইলে আবছার উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, টিলা কাটায় তাঁর সংশ্লিষ্টতা নেই। এলাকার কারও জায়গা ভরাটের প্রয়োজন হলে তাঁরা নিজেরাই টিলার মাটি কেটে নিয়ে যান।

পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫-এর ৬ (খ) ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সরকারি বা আধা সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন বা দখলাধীন বা ব্যক্তিমালিকানাধীন পাহাড় ও টিলা কর্তন বা মোচন করতে পারবে না। তবে অপরিহার্য জাতীয় স্বার্থের প্রয়োজনে অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিয়ে পাহাড় বা টিলা কাটা যেতে পারে।

লোহাগাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মং এছেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘কোনোভাবেই পাহাড়-টিলা কাটা যাবে না। আমরা দ্রুত অভিযান চালিয়ে টিলা কাটায় জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেব।’