বাউফলে নির্বাচনে হেরে টাকা ফেরত নিলেন এক প্রার্থী

পটুয়াখালী জেলা পরিষদের নির্বাচনে পরাজিত হয়ে শতাধিক মানুষের সামনে এক ভোটারের কাছে টাকা ফেরত চাইছেন প্রার্থী রুবিনা আক্তার
ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

পটুয়াখালী জেলা পরিষদের নির্বাচনে পরাজিত হয়ে ভোটারদের কাছে টাকা ফেরত চেয়েছেন সংরক্ষিত মহিলা সদস্যপদের এক প্রার্থী। ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) এক সদস্যের (ভোটার) কাছ থেকে তাঁর টাকা ফেরত চাওয়ার সময় বাগ্‌বিতণ্ডার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পরে শতাধিক মানুষের সামনে ওই ইউপি সদস্য ওই মহিলা সদস্য প্রার্থীকে দুই হাজার টাকা ফেরত দেন।

গতকাল সোমবার রাত ১০টার দিকে বাউফল পৌরসভার বকুলতলা সড়ক এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উৎসুক জনতা ওই ঘটনা ভিডিও করেন। ওই ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

পরাজিত ওই সদস্য প্রার্থীর নাম রুবিনা আক্তার। তিনি এবারের পটুয়াখালী জেলা পরিষদ নির্বাচনে বাউফল ও দশমিনা দুই উপজেলার সংরক্ষিত মহিলা সদস্যপদের প্রার্থী ছিলেন। গতকালের ওই নির্বাচনে তাঁরা চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে দোয়াত–কলম প্রতীকের কামরুন নাহার ১৪৬ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন হরিণ প্রতীকের পশারী রানী। তিনি পেয়েছেন ১২০ ভোট। আর রুবিনা আক্তার ফুটবল প্রতীকে ৩৬ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন। আরেক প্রার্থী টেবিল ঘড়ি প্রতীকের ফাতেমা আলমকে কেউ ভোট দেননি।

প্রথমে টাকা ফেরত দিতে না চাইলেও একপর্যায়ে ওই মেম্বার আমাকে দুই হাজার টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হন।
রুবিনা আক্তার, পরাজিত সংরক্ষিত মহিলা সদস্যপদের প্রার্থী

ভিডিওতে দেখা যায়, রুবিনা আক্তার অনেক মানুষের মধ্যে বলেন, ‘আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী ভোটারদের দুই হাজার করে টাকা দিয়েছি। তাঁরা টাকা নেওয়ার সময় আমাকে আশ্বাস দিয়েছিলেন, আমাকে ভোট দেবেন। কিন্তু তাঁরা অনেকেই আমাকে ভোট দেননি। যাঁরা আমাকে ভোট দেননি, তাঁরা অনেকেই আমাকে টাকা ফেরত দিয়েছেন। কিন্তু এই মেম্বার (দাসপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. আনিচুর রহমান) আমার টাকা ফেরত না দিয়ে আমাকে অপমান করছেন।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য আনিচুর রহমান বলেন, ‘তাঁর (রুবিনা) কাছে কোনো টাকা চাইনি। এরপরও জোর করে চা খাওয়ানোর জন্য দুই হাজার টাকা রেখে গেছেন। নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর সেই টাকা নিতে এসেছিলেন। আমি দুই হাজার টাকা তাঁকে ফেরত দিয়েছি।’

রুবিনা আক্তার নির্বাচনে হেরে ভোটারদের কাছে টাকা চাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, প্রথমে টাকা ফেরত দিতে না চাইলেও একপর্যায়ে ওই মেম্বার (আনিচুর রহমান) তাঁকে দুই হাজার টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হন।