কুমিল্লা জেলাজুড়ে একযোগে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার মধ্যরাতে জেলার ব্রাহ্মণপাড়া সদর এলাকায়
কুমিল্লা জেলাজুড়ে একযোগে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার মধ্যরাতে জেলার ব্রাহ্মণপাড়া সদর এলাকায়

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আরও ৩৭৯ জন আটক

কুমিল্লায় চতুর্থ দফায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চালিয়ে নগরের আলোচিত কিশোর গ্যাং ‘র’ (আরএডব্লিউ)-এর অন্যতম সদস্য রিফাতসহ ৩৭৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত জেলার ১৮টি থানায় একযোগে অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়।

আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফুর রহমান প্রথম আলোকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা ও কিশোর বয়সী বখাটেদের উৎপাত আছে, এমন বিভিন্ন স্থান, আড্ডাস্থল ও অপরাধপ্রবণ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। তবে জেলার কোন থানায় কতজন আটক হয়েছেন, তা তিনি জানাননি।

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, আটক ব্যক্তিদের অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে কঠোরভাবে খেয়াল রাখা হচ্ছে। তিনি বলেন, গতকাল রাতের অভিযানে নগরের আলোচিত কিশোর গ্যাং ‘র’-এর অন্যতম সদস্য রিফাতকে আটক করা হয়। তিনি অস্ত্র প্রদর্শন করে ভিডিও করেছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার বিভিন্ন অভিযোগ আছে।

৪ অভিযানে আটক ১৬৭২

অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান জোরদার করে পুলিশ। গত বুধবার রাত থেকে গতকাল রাত পর্যন্ত সাত দিনের মধ্যে চার দিনই জেলাজুড়ে একযোগে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে গতকাল ৩৭৯ জনসহ মোট ১ হাজার ৬৭২ জনকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

গত বুধবার ও গত শনিবার রাতে দুই দফার অভিযানে ৮৭৮ জনকে আটক করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ৫৯৭ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকি ২৮১ জনের বিরুদ্ধে মাদক, নিয়মিত মামলা, ভ্রাম্যমাণ আদালত, নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসহ বিভিন্নভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। শনিবারের অভিযানে কুমিল্লার আলোচিত কিশোর গ্যাং ‘রতন গ্রুপ’ বা ‘আর স্কোয়াডের’ সক্রিয় পাঁচ সদস্যকে ধরার কথা জানিয়েছিল পুলিশ। তাঁদেরই একজন আনিসুর রহমান ওরফে আনিক (১৯) গ্রুপটির ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ ছিলেন।

তৃতীয় দফায় গত রোববার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে আরও ৪১৫ জনকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে ২৭৭ জনকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকি ১৩৮ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ দফায় ‘আর স্কোয়াডের’ অন্যতম সদস্য সিফাত আটক হয়েছিলেন।

১৮ সেপ্টেম্বর নগরের কোটবাড়ীর গন্ধমতী এলাকার বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম। পরদিন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে।

অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে দুজন অপ্রাপ্তবয়স্ক। পুলিশ জানিয়েছে, ১৯ বছর বয়সী সাইফুল ইসলাম তুহিনসহ তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অপর একজনকে হত্যাকাণ্ডের সহযোগী হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।