
বঙ্গোপসাগরের মাছ ধরতে গিয়ে ডাকাতির (জল দস্যুতা) কবলে পড়েছে চট্টগ্রামের আনোয়ারার তিনটি ট্রলার। এ ঘটনায় এক জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ ছাড়া একই ঘটনায় আরও ১২ জেলে আহত হয়েছেন।
গতকাল মঙ্গলবার গভীর রাতে কক্সবাজারের কুতুবদিয়ার পশ্চিম সাগরে এ ঘটনা ঘটে। ডাকাতের কবলে পড়া তিনটি ট্রলারের মালিক আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের পূর্ব গহিরা এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ট্রলার তিনটির মালিক মো. তৈয়ব আলী, মো. ফেরদৌস ও জসিম উদ্দিন। গত সোমবার ভোরে এসব ট্রলারে মাছ ধরতে সাগরে গিয়েছিলেন জেলেরা। গতকাল গভীর রাতে জলদস্যুরা হঠাৎ ট্রলারগুলোয় আক্রমণ করে। পরে অস্ত্রের মুখে জেলেদের জিম্মি করে ট্রলারের বিভিন্ন সরঞ্জাম লুট করে। এ সময় জলদস্যুরা একজনকে গুলি করে এবং ১২ জনকে মারধর করে আহত করা হয়। পরে আজ বুধবার দুপুরে আনোয়ারা উপকূলে ট্রলার এলে বিষয়টি জানাজানি হয়।
গুলিবিদ্ধ ওই জেলের নাম মনির আহমদ। উপকূলে আসার পর তাঁকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ ছাড়া এ ঘটনায় আহত অন্য জেলেরা হলেন ট্রলারচালক আবদুল জব্বার, জেলে মো. ফরিদুল আলম, মো. মিজান, মো. মনির, জয়নাল আবদিন, আকবর হোসেন, আবুল কাশেম, নেজাম উদ্দিন, মিজানুর রহমান, মো. রুবেল প্রমুখ।
জানতে চাইলে একটি ট্রলারের মালিক জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আমার ট্রলারসহ তিনটি ট্রলার জলদস্যুর কবলে পড়েছে। এতে আমার ট্রলারের মাঝি মনির আহমদ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ ছাড়া আমার ট্রলারের সাতজনসহ তিনটি ট্রলারের ১২ জন আহত হয়েছেন। জলদস্যুরা ট্রলারের মাছ ও মালামাল লুট করেছে। সব মিলিয়ে তিনটি ট্রলার থেকে ৩০ লাখ টাকার সরঞ্জাম লুট হয়েছে।’
জানতে চাইলে বার আউলিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ কায়সার হামিদ বলেন, ‘সাগরে মাছ ধরার ট্রলারে জলদস্যুর হামলার কথা শুনে বুধবার সকালে নৌ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে টহল দিয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’