
হবিগঞ্জ জেলার চারটি সংসদীয় আসনেই জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন এসব আসনের বেসরকারি চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন। জেলার চারটি আসনের মধ্যে হবিগঞ্জ-৩ (সদর-লাখাই-শায়েস্তাগঞ্জ) আসনটি ছাড়া বাকি তিনটি আসন দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল। এসব আসনে বরাবরই আওয়ামী লীগ জয়ী হয়ে এলেও এবারের নির্বাচনে ভিন্ন ফল দেখা গেছে।
হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ছিল ১৭৮টি। সব কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপি প্রার্থী রেজা কিবরিয়া পেয়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ৯৯৯ ভোট। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা মো. সিরাজুল ইসলাম পেয়েছেন ৫৬ হাজার ১৩২ ভোট। বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়া পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৬৩৭ ভোট। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৪০০, ‘না’ ভোট পড়েছে ৬৮ হাজার ৪০৯।
হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমিরগঞ্জ) আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ছিল ১৫০টি। সব কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপি প্রার্থী আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান পেয়েছেন ১ লাখ ২৬ হাজার ৫৮৩ ভোট।
খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা আবদুল বাছিত আজাদ পেয়েছেন ৬৫ হাজার ৭৬২ ভোট। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৯৮৪, ‘না’ ভোট পড়েছে ৬৩ হাজার ৯৬৩।
হবিগঞ্জ-৩ (হবিগঞ্জ সদর-লাখাই-শায়েস্তাগঞ্জ) আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ছিল ১৩৭টি এবং সব কেন্দ্রের ফল পাওয়া গেছে। বিএনপি প্রার্থী জি কে গউছ পেয়েছেন ১ লাখ ৪২ হাজার ৪৫৬ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী কাজী মহসিন আহমদ পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৫৬৮ ভোট। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ১ লাখ ১১ হাজার ৫৭৮, ‘না’ ভোট পড়েছে ৭১ হাজার ১৩৮।
হবিগঞ্জ-৪ (চুনারুঘাট-মাধবপুর) আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ছিল ১৮৪টি। সব কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপি প্রার্থী এস এম ফয়সল পেয়েছেন ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭২ ভোট। ইসলামিক ফ্রন্টের প্রার্থী মাওলানা গিয়াস উদ্দিন তাহেরী পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৩২৩ ভোট। জামায়াত জোটের খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের পেয়েছেন ২৬ হাজার ৪৫৩ ভোট। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৪৩ হাজার, ‘না’ ভোট পড়েছে ১ লাখ ২৬ হাজার।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচন–সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে শান্তিপূর্ণভাবেই ভোট গ্রহণ ও ফলাফল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।