
গোপালগঞ্জে একটি ডাকাতি মামলার রায়ে সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করেও জরিমানাও করেছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার দুপুরে গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১-এর বিচারক মো. আব্বাস উদ্দীন এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন—কাশিয়ানী উপজেলার ছোট বাহিরবাগ গ্রামের ইবাদত শরীফের ছেলে শাওন শরীফ (২২), দলিল উদ্দিনের ছেলে আনিস শরীফ (৩৫), কাশালীয়া গ্রামের আক্কাশ খানের ছেলে ইমন খান (২৪), একই গ্রামের নওশের শরীফের ছেলে সোহাগ শরীফ (২৭), ছানা মিয়ার ছেলে আশিক শেখ (২৬), বাবুল মিয়ার ছেলে রাজু মিয়া (২৬) ও গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মৌলভীপাড়ার বিল্লাল কাজীর ছেলে সজীব কাজী (২৫)।
আসামিদের মধ্যে শাওন শরীফ ও ইমন খান ঘটনাস্থলে জনতার হাতে আটক হয়েছিলেন এবং তাঁদের কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছিল। এই দুজনকে অতিরিক্ত পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
রায় ঘোষণার সময় আসামি ইমন খান, আশিক শেখ ও সজীব কাজী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অপর চার আসামি শাওন শরীফ, সোহাগ শরীফ, রাজু মিয়া ও আনিস শেখ পলাতক।
পাভেল বাসার দরজা খুলতে বললে একজন ডাকাত সদস্য দরজা খোলেন এবং অন্যরা চায়নিজ কুড়াল ও ধারালো ছুরি দিয়ে পাভেলের মাথায় আঘাত করেন।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের ২৮ জুলাই রাত আটটার দিকে গোপালগঞ্জ শহরের ১২৬ কলেজ মসজিদ রোডে ইটভাটার মালিক ও ব্যবসায়ী শেখ আবদুল্লা পাভেলের বাসায় এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ওই দিন ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল পাভেলের বন্ধু পরিচয় দিয়ে বাসায় প্রবেশ করেন। ওই সময় পাভেলের মা তাজি বেগম ও নানি রুবিয়া বেগম বাসায় ছিলেন। ডাকাতেরা ওই দুই নারীকে হাত-পা বেঁধে বেধড়ক মারপিট করে টাকা ও স্বর্ণালংকার দিতে বলেন। পরে আলমারির চাবি দিয়ে প্রাণে বাঁচার আকুতি জানান তাঁরা। এ সময় তাঁরা দেড় লাখ টাকা ও সাত ভরি স্বর্ণালংকার বের করে নেন। কিছু সময় পর পাভেল বাসার দরজা খুলতে বললে একজন ডাকাত সদস্য দরজা খোলেন এবং অন্যরা চায়নিজ কুড়াল ও ধারালো ছুরি দিয়ে পাভেলের মাথায় আঘাত করেন। এতে পাভেল অচেতন হয়ে পড়েন। পরে ওই বাড়ির কেয়ারটেকার তারেক বাড়িতে ডাকাত পড়েছে বুঝতে পেরে চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। বাড়ির অন্য দরজা দিয়ে পালানোর সময় ডাকাত শাওন শরীফ ও ইমন খানকে ধরে ফেলেন জনতা। পরে পুলিশের কাছে তাঁদের সোপর্দ করা হয়। এ সময় ওই দুজনের কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা জব্দ করে পুলিশ।
ঘটনার পরদিন পাভেল বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানায় ডাকাতি ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন। গোপালগঞ্জ থানা-পুলিশ তদন্ত করে ২০২১ সালের ৩১ জানুয়ারি ওই সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক আজ রায় ঘোষণা করেন।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন এপিপি মো. শহিদুজ্জামান খান এবং আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন মো. সিদ্দিকুজ্জামান, মো. সরোয়ার শিকদার ও মো. সামচুর রহমান।