
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়াকামালপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ঠেলে পাঠানো বৃদ্ধের পরিচয় মিলেছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে শূন্যরেখা থেকে তাঁকে উদ্ধার করে বকশীগঞ্জ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
ওই বৃদ্ধের নাম ষষ্টিচন্দ্র বর্মণ। তিনি রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চান্দলাই গ্রামের বাসিন্দা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক ইমাম হোসেন।
এর আগে গতকাল বুধবার সকালে ওই বৃদ্ধকে ঠেলে পাঠানো নিয়ে বিএসএফের সঙ্গে বিজিবির বাগ্বিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে তাঁকে সীমান্তের শূন্যরেখায় রেখে চলে যান বিএসএফ সদস্যরা। এ ঘটনায় গতকাল দিনভর ওই সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা চলে। গতকাল সকাল থেকে আজ বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছিলেন ওই বৃদ্ধ।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার সকালে সীমান্তের ১০৮২ নম্বর পিলার এলাকায় দিয়ে ওই বৃদ্ধকে বাংলাদেশে পাঠানোর (পুশ ইন) চেষ্টা করেন বিএসএফ সদস্যরা। বিষয়টি টের পেয়ে বিজিবির সদস্যরাও সেখানে অবস্থান নেন। এ সময় বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে বাগ্বিতণ্ডাও চলে। পরে স্থানীয় বাসিন্দারাও বিজিবির সঙ্গে যোগ দেন। বিএসএফ সদস্যরা ওই বৃদ্ধকে সীমান্তের শূন্যরেখায় রেখে চলে যান।
বিএসএফ ও বিজিবি সদস্যদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডার একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে ওই বৃদ্ধকেও দেখা যায়। ভিডিওটি দেখে তাঁর পরিবারের সদস্যরা বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে পরিচয় যাচাই-বাছাই করে তাঁকে সীমান্ত এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।
জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক ইমাম হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ওই বৃদ্ধ তাঁর বাড়ি রাজশাহী বলে জানিয়েছিলেন। পরে খোঁজখবর নেওয়া হয় এবং পরিবারের সদস্যরা ভিডিও দেখে তাঁকে চিনতে পারেন। তাঁর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং বাংলাদেশি ভোটার আইডি কার্ডও আছে। শূন্যরেখা থেকে তাঁকে উদ্ধার করে খাবার দেওয়ার পাশাপাশি থানা হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
পরিবারের লোকজন আইনগত প্রক্রিয়া মেনে ওই বৃদ্ধকে নিতে আসছেন। আজ সকাল থেকে বিএসএফ কোথাও পুশ ইনের চেষ্টা করেনি এবং সীমান্ত শান্ত আছে। বর্তমানে উদ্বেগজনক কোনো পরিস্থিতি না থাকলেও যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বা পুশ ইনের চেষ্টা প্রতিরোধে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে আছে।