সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে চট্টগ্রাম নগরে। দুপুরের পর বৃষ্টি কমলেও রাস্তঘাট এখনো ভেজা। আজ বেলা তিনটায় নগরের জামালখানে
সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে চট্টগ্রাম নগরে। দুপুরের পর বৃষ্টি কমলেও রাস্তঘাট এখনো ভেজা। আজ বেলা তিনটায় নগরের জামালখানে

ঈদের দিন কেমন থাকবে চট্টগ্রামের আবহাওয়া

ঈদুল আজহার আগে এখন শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। কোরবানির পশুর হাটে দরাদরি চলছে। বাস ও ট্রেনে ঘরমুখী মানুষের ভিড়। এর মধ্যেই আজ বুধবার সকাল থেকে চট্টগ্রাম নগরে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। এতে মানুষের ভোগান্তিও বাড়ছে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আজ দুপুর ১২টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ২৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে ১২ মিলিমিটার।

আবহাওয়া অফিস বলছে, বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে চট্টগ্রামসহ উপকূলীয় এলাকায় এমন বৃষ্টি হচ্ছে। সামনে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ায় এ ধরনের আবহাওয়া এখন স্বাভাবিক প্রবণতা। পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ বিশ্বজিৎ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঈদের দিন বৃহস্পতিবার সকালেও থেমে থেমে বৃষ্টি হতে পারে।’

বিশ্বজিৎ চৌধুরী বলেন, ‘এখন কালবৈশাখীর মৌসুম। সামনে বর্ষা। ফলে এর আগে এ ধরনের বৃষ্টি স্বাভাবিক। এমন আবহাওয়া আরও কয়েক দিন থাকবে। থেমে থেমে বৃষ্টি হবে। আবার রোদও দেখা যাবে।’

হাটে বৃষ্টির বাগড়া

এই বৃষ্টি ঈদের আগের ব্যস্ততায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে কোরবানির পশুর হাটে বেচাকেনায় এর প্রভাব পড়ছে। আজ সকালে নগরের বিবিরহাটে ঘুরে দেখা গেছে, কাদা আর পানিতে ভরে গেছে হাটের ভেতরের অনেক অংশ। এর মধ্যেই চলছে গরু-ছাগল কেনাবেচা। অনেক ক্রেতা ছাতা মাথায় হাট ঘুরছেন। আবার কেউ বৃষ্টির কারণে হাটে আসতেই দেরি করছেন।

বিক্রেতাদের দাবি, বৃষ্টির কারণে ক্রেতার উপস্থিতি কমে গেছে। ফলে শেষ মুহূর্তেও অনেক পশু অবিক্রীত রয়েছে। বিশেষ করে ছাগলের বাজারে বিক্রেতারা দাম কিছুটা কমিয়ে বিক্রির চেষ্টা করছেন। বিবিরহাটের ব্যবসায়ী শফিউল আজম বলেন, ‘বৃষ্টি না হলে আজ হাটে আরও বেশি মানুষ আসত। কাদা আর পানির কারণে অনেকে পরিবার নিয়ে আসতে পারছেন না।’

শুধু পশুর হাট নয়, ঈদে ঘরে ফেরা মানুষের দুর্ভোগও বাড়িয়েছে এই বৃষ্টি। আজ সকালে চট্টগ্রাম রেলস্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, প্ল্যাটফর্মজুড়ে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের ভিড়। কারও হাতে ব্যাগ। কারও কোলে শিশু। বৃষ্টির কারণে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে অনেকেই ভোগান্তিতে পড়েছেন। স্টেশনের বাইরে সড়কেও ছিল যানজট।

বাস টার্মিনালগুলোতেও একই চিত্র। নগরের অলংকার, একে খান ও দামপাড়া এলাকায় দূরপাল্লার বাস কাউন্টারগুলোর সামনে যাত্রীদের দীর্ঘ অপেক্ষা দেখা গেছে। বৃষ্টির কারণে যান চলাচল ধীর হয়ে পড়ায় নির্ধারিত সময়ের তুলনায় অনেক বাস দেরিতে ছাড়ছে বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা।

ঘরমুখো কয়েকজন যাত্রী বলেন, ঈদের আগে এমনিতেই চাপ বেশি থাকে। তার ওপর বৃষ্টি যোগ হওয়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে চলাচল করতে বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

ঈদের জামাতের প্রস্তুতি

আগামীকাল পবিত্র ঈদুল আজহার প্রথম ও প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে নগরের জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদে। প্রতি বছরের মতো এবারও সেখানে ২০ থেকে ২৫ হাজার মুসল্লি কেন্দ্রীয় জামাতে অংশ নিতে পারেন। সে কারণে দুটি জামাতের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম ও প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৭টায়। দ্বিতীয় জামাত হবে সকাল ৮টায়।

বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে জমিয়াতুল ফালাহ ময়দানে নামাজের স্থানে ত্রিপল টাঙানো হয়েছে। মাঠে নামাজ আদায় সম্ভব না হলে মসজিদের ভেতরেও জামাতের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রথম জামাতে ইমামতি করবেন জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদের খতিব আল্লামা সৈয়দ আবু তালেব মোহাম্মদ আলাউদ্দীন আল কাদেরী। দ্বিতীয় জামাতে ইমামতি করবেন মসজিদের জ্যেষ্ঠ পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ আহমদুল হক।

সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে নগরের আরও ৯টি মসজিদে সকাল ৮টায় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে রয়েছে লালদীঘি শাহি জামে মসজিদ, শেখ ফরিদ (রহ.) চশমা ঈদগাহ মসজিদ, সুগন্ধা আবাসিক এলাকা জামে মসজিদ, চকবাজার সিটি করপোরেশন জামে মসজিদ, জহুর হকার্স মার্কেট জামে মসজিদ, দক্ষিণ খুলশী ভিআইপি আবাসিক এলাকা জামে মসজিদ, আরেফীন নগর কেন্দ্রীয় কবরস্থান জামে মসজিদ, সাগরিকা গরুর বাজার জামে মসজিদ এবং মা আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) চসিক জামে মসজিদ।