
বরিশাল নগরে নাজমুল হোসেন (২৩) নামের এক অটোরিকশাচালক হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি মিরাজ হাওলাদারকে গ্রেপ্তারের পর তাঁর বাড়িঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। আজ বুধবার সকালে নগরের জাগুয়া নতুনহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
একাধিক সূত্রে জানা যায়, নিজ বাড়িতে আসামি মিরাজ হাওলাদার অবস্থান করছেন বলে পুলিশকে জানান স্থানীয় কয়েকজন। পরে সকালে অভিযান চালিয়ে মিরাজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের সময় স্থানীয় লোকজন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি করলেও আসামিকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে শত শত স্থানীয় বাসিন্দা এবং নিহত নাজমুলের স্বজনেরা মিরাজের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন। একপর্যায়ে বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এর আগে গত শনিবার সকালে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন নাজমুল হোসেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, ওই দিন দুপুরের পর থেকে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। গভীর রাত পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় স্বজনেরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। পরদিন রোববার নাজমুলের বাবা আবদুল রশিদ মোল্লা বরিশাল বিমানবন্দর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
নিখোঁজের দুই দিন পর সোমবার নগরের কালিজিরা নদীর পূর্ব তীর থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ভাসমান একটি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে স্বজনেরা সেটি নাজমুলের লাশ বলে শনাক্ত করেন। নাজমুল বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের মাকরকাঠি এলাকার বাসিন্দা আবদুর রশিদ মোল্লার ছেলে।
এ ঘটনায় নাজমুলের বাবা বাদী হয়ে বিমান বন্দর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় প্রধান আসামি মিরাজ হাওলাদার ছাড়াও আরও তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, নাজমুলের অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে তাঁকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। শ্বাসরোধ অথবা আঘাত করে হত্যার পর তাঁর লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।
বরিশাল মহানগর পুলিশের (বিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার আবদুল হান্নান বলেন, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং নিহত নাজমুলের অটোরিকশা উদ্ধারে পুলিশ শুরু থেকেই তৎপর ছিল। তদন্তের সূত্র ধরে প্রধান আসামি মিরাজ হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করে দায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে কাজ করছে পুলিশ।
আবদুল হান্নান আরও বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের পর কিছু মানুষ উত্তেজিত হয়ে তাঁর বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করেছে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদেরও চিহ্নিত করা হচ্ছে। বর্তমানে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।