গাজীপুরের শ্রীপুরে চলন্ত ট্রেনের চাকার সঙ্গে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ স্প্রিং খুলে স্টেশনের আগেই যায় মহুয়া এক্সপ্রেস। আজ রোববার
গাজীপুরের শ্রীপুরে চলন্ত ট্রেনের চাকার সঙ্গে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ স্প্রিং খুলে  স্টেশনের আগেই যায় মহুয়া এক্সপ্রেস। আজ রোববার

গাজীপুরে চাকার স্প্রিং খুলে স্টেশনের আগেই থামল ট্রেন

ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে গাজীপুরের শ্রীপুরে চলন্ত ট্রেনের চাকার সঙ্গে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ স্প্রিং খুলে যাওয়ার ফলে স্টেশনের আগেই থেমে গেল মহুয়া এক্সপ্রেস। এতে সম্ভাব্য দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেলেও ট্রেন চলাচলে সময়সূচির বিপর্যয় ঘটেছে। আজ রোববার সকাল সোয়া ১০টার দিকে শ্রীপুর ও ইজ্জতপুর রেলস্টেশনের মাঝের বিন্দুবাড়ি এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।

ঢাকা থেকে ময়মনসিংহগামী মহুয়া এক্সপ্রেসের শ্রীপুর স্টেশনে পৌঁছানোর কথা ছিল সকাল ১০টা ১৭ মিনিটে। তবে স্টেশনের প্রায় দুই কিলোমিটার আগেই হঠাৎ ট্রেনটির একটি বগির চাকার সঙ্গে লাগানো স্প্রিং খুলে যায়। এটি বুঝতে পেরে চালক ট্রেন থামিয়ে দেন।

যাত্রী ও স্থানীয় কয়েকজন বলেন, ট্রেনটি থেমে যাওয়ার পর যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে ট্রেনচালক ও অন্যান্য কর্মীরা রেললাইনের পাশে পড়ে থাকা স্প্রিংটি কুড়িয়ে আনেন। স্থানীয় বাসিন্দা হামিদ মিয়ার বাড়ি থেকে জিআই তার এনে স্প্রিংটির সঙ্গে থাকা আরেকটি যন্ত্রাংশ সাময়িকভাবে বেঁধে রাখেন কর্মীরা। এরপর প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে থাকার পর রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় ধীরে ধীরে মহুয়া এক্সপ্রেসটি শ্রীপুর স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়। নিরাপত্তার কারণে ট্রেনটির পরবর্তী যাত্রা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়।

রেলস্টেশন সূত্র জানায়, এ ঘটনায় মহুয়া এক্সপ্রেস নির্ধারিত সময় অনুযায়ী যাত্রা শুরু করতে পারেনি এবং বর্তমানে শ্রীপুর রেলস্টেশনে দাঁড়িয়ে আছে। এ ছাড়া ওই রেলপথে ট্রেন চলাচল কিছু সময়ের জন্য ব্যাহত হয়। মহুয়া এক্সপ্রেসের কারণে ঢাকাগামী ব্রক্ষপুত্র এক্সপ্রেস প্রায় দেড় ঘণ্টা বিলম্বে শ্রীপুর স্টেশন ত্যাগ করে। সব মিলিয়ে ওই সময় অন্তত তিনটি ট্রেনের সময়সূচিতে বিঘ্ন ঘটে।

শ্রীপুর রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার শামীম রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ট্রেনের চাকার স্প্রিং খুলে যাওয়ার কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জেনেছেন। এতে কয়েকটি ট্রেনের চলাচলে সময়সূচি ব্যাহত হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত মহুয়া এক্সপ্রেস বর্তমানে শ্রীপুর স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছে। ট্রেনটি মেরামতের জন্য প্রকৌশলী পাঠানো হতে পারে অথবা রিলিফ ট্রেনের মাধ্যমে সেটি সরিয়ে নেওয়া হতে পারে। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে।