
কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানকে নিয়ে মানহানিকর বক্তব্য ও কটূক্তির অভিযোগে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য জামায়াত নেতা আমির হামজাকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশ প্রাপ্তির ১০ দিনের মধ্যে বক্তব্য সম্পর্কে সন্তোষজনক জবাব দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
জাতীয় ছাত্রশক্তি কুষ্টিয়া জেলা শাখার সদস্যসচিব আই-ইয়াশ ইমনের পক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার কুষ্টিয়া আদালতের আইনজীবী নুরুল ইসলাম নোটিশটি পাঠান। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘লিগ্যাল নোটিশটি এমপি সাহেব বরাবর পাঠানো হয়েছে। নোটিশে ১০ দিনের মধ্যে মানহানিকর বক্তব্যের সন্তোষজনক জবাব দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। যদি তা না করেন, তাহলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ সদস্য আমির হামজাকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। ২৬ সেকেন্ডের ওই ভাইরাল ভিডিওতে আমির হামজা বলেন, ‘আমার মনে হয় ফজু পাগলকে বাইরে রাখলে ক্ষতি হবে। ওকে পাবনা পাঠানো দরকার। যাঁরা আছেন কিশোরগঞ্জ, তাঁরা ধরে-বাঁধে ওরে পাবনা পাঠান। দরকার হয় কুকুর মারা ইনজেকশন দিয়ে দেয়।’
নোটিশে বলা হয়েছে, আমির হামজা জনসমক্ষে বক্তব্য প্রদানকালে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান সম্পর্কে বিভিন্ন সময় মানহানিকর বক্তব্য দিয়েছেন এবং অপপ্রচার চালিয়েছেন। একজন সংসদ সদস্যকে ফজু পাগলা বলে আখ্যায়িত করে পাবনা মানসিক হাসপাতালে পাঠানোর কথা বলেছেন। এমনকি কুকুর মারা ইনজেকশন দেওয়ার কথা বলেছেন। এতে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে। এসব বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের ফলে বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান সামাজিক, মানসিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
জানতে চাইলে জাতীয় যুবশক্তি নেতা আই-ইয়াশ ইমন বলেন, ‘ফজলুর রহমান আমার পছন্দের ব্যক্তি। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তাঁকে নিয়ে মানহানিকর বক্তব্য কাম্য নয়। এই কারণে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছি।’
এর আগে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ বন্ধ রাখতে ৫০ কোটি টাকা ঘুষের প্রস্তাব দেওয়া ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় প্রকাশের জন্য সংসদ সদস্য আমির হামজাকে আইনি নোটিশ পাঠান জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হৃদয় হাসান। কুষ্টিয়ার ডিসি আসতে কমপক্ষে এখন ৩০ থেকে ৫০ কোটি টাকা খরচ করা লাগে—এমন বক্তব্যের জন্য সম্প্রতি তাঁকে আরেকটি আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলার জিয়ারখী ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি রবিউল ইসলাম।
এ ছাড়া কুষ্টিয়ার হাটশ হরিপুর বড় জামে মসজিদে এক আলোচনায় আমির হামজা বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকেও ‘নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী’ বলেন। ওই ঘটনায় সিরাজগঞ্জের আদালত মানহানির মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।