২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন তামযীদ তাহসিন। পরীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী, তিনি মোট ১ হাজার ৩০০ নম্বরের মধ্যে ১ হাজার ২২২ নম্বর পেয়েছেন।
তামযীদ চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসচি পাস করেছেন। তিনি রেজাউল করিম ও শামছুন্নাহার বেগম দম্পতির ছেলে। তাঁদের বাড়ি গাইবান্ধায়। তবে বাবার কর্মসূত্রে চুয়েট ক্যাম্পাসেই থাকেন তামযীদ।
নিজের ফলের বিষয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তামযীদ বলেন, ‘সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে বেশ ভালো লাগছে।’ পরীক্ষায় উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ নিয়ম অনুসরণ করেছেন কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পরীক্ষায় উত্তর লেখার ক্ষেত্রে কিছু কৌশল অবলম্বন করেছি। যে প্রশ্নগুলোর উত্তর ভালো পারি, সেগুলোই আগে লিখেছি। পরে অপেক্ষাকৃত কঠিনগুলোর উত্তর দিতাম।’
পরীক্ষার প্রস্তুতির বিষয়ে তামযীদ বলেন, ‘কত ঘণ্টা পড়ব, সে বিষয়ে কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম ছিল না। যখন যে বিষয় পড়তে ভালো লাগত, সেটিই পড়তাম। কোনো কিছু বুঝতে অসুবিধা হলে শিক্ষকদের কাছ থেকে বুঝে নিতাম। প্রয়োজনে সরাসরি শিক্ষকদের কাছে যেতাম, আবার কখনো অনলাইনেও যোগাযোগ করতাম। শিক্ষকেরা স্বাচ্ছন্দ্যে সহযোগিতা করেছেন।’
রসায়ন তাঁর খুবই পছন্দের বিষয় বলে জানান তামযীদ। তিনি বলেন, ‘পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করতে ভালো লাগে। এ আগ্রহ থেকেই ভবিষ্যতে প্রকৌশল বিষয়ে পড়তে চাই।’
তামযীদের বাবা রেজাউল করিম চুয়েটের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক। ছেলের ফলের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন মাধ্যম থেকে জানতে পেরেছি, মোট নম্বর অনুযায়ী ও বোর্ডে প্রথম হয়েছে। ছেলের ফল নিয়ে আমার অনুভূতি হলো—আলহামদুলিল্লাহ। বাবা-মা হিসেবে ব্যাপারটা খুবই আনন্দের। ও চেষ্টা করেছে, তাই সে অনুযায়ী ভালো ফল করতে পেরেছে।’
চুয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) হালিমা খানম প্রথম আলোকে বলেন, ‘জেনেছি, ও শিক্ষা বোর্ডে মোট প্রাপ্ত নম্বরের দিক দিয়ে প্রথম হয়েছে। তামযীদের এমন ফলে আমরা উচ্ছ্বসিত। সে খুবই মেধাবী, বিনয়ী। তার অধ্যবসায়, পরিশ্রমের মাধ্যমে এমন সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে। বিষয়টি বর্তমান শিক্ষার্থীদের অণুপ্রাণিত করবে।’
প্রথম হওয়ার বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন, ‘মেধাভিত্তিক কোনো তালিকা তৈরি করা হয়নি। তাই কার ফল সবচেয়ে ভালো, তা বলা যাচ্ছে না। তবে তাঁর ফল অবশ্যই প্রশংসনীয়।’
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলার শিক্ষার্থীরা এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। এ বছর চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ৯৯ হাজার ৮৭৮ জন। তাঁদের মধ্যে পাস করেছেন ৫০ হাজার ১৬৬ জন। পাসের হারে ছাত্রদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন ছাত্রীরা। ছাত্রদের পাসের হার ৪৭ দশমিক ৬২ শতাংশ ও ছাত্রীদের ৫৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ।