ডিবি সেজে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের মামলা

খালাস পেলেন বরখাস্ত পুলিশের ছয় কনস্টেবল

পুলিশ লোগো
পুলিশ লোগো

চট্টগ্রামে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ সেজে ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের মামলায় পুলিশের ছয় কনস্টেবল (সাময়িক বরখাস্ত) খালাস পেয়েছেন। আজ মঙ্গলবার বিকেলে চতুর্থ অতিরিক্ত চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ ফারজানা আক্তার এ রায় দেন।
চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি রবিউল আলম প্রথম আলোকে বলেন, মামলায় ১২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। কিন্তু সাক্ষীরা দুর্বল সাক্ষ্য দেওয়ায় অপরাধ প্রমাণ না হওয়ায় তাঁরা বেকসুর খালাস পান। রায়ের এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে কি না, প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, জেলা সরকারি কৌঁসুলির সঙ্গে আলাপ করে এই বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে।

খালাস পাওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন তৎকালীন নগর পুলিশ কমিশনারের দেহরক্ষী মোরশেদ বিল্লাহ, নগর পুলিশের এক উপকমিশনারের দেহরক্ষী মো. মাসুদ, নগরের দামপাড়া রিজার্ভ ফোর্স অফিসে কর্মরত কনস্টেবল শাকিল খান ও এস্কান্দর হোসেন, তৎকালীন নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার কর্ণফুলী কার্যালয়ের কম্পিউটার অপারেটর মনিরুল ইসলাম ও নগর গোয়েন্দা পুলিশে (উত্তর) কর্মরত কনস্টেবল আবদুল নবী।

আদালত সূত্র জানায়, আসামি কনস্টেবলরা অপহরণের পর প্রথমে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ গ্রামের ব্যবসায়ী আবদুল মান্নানের কাছে। পরে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিয়ে ছেড়ে দেন। এ ঘটনায় ২০২১ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি আবদুল মান্নান বাদী হয়ে আনোয়ারা থানায় মামলা করেন। এজাহারে সরকারি কর্মচারীর ছদ্মবেশ ধারণ করে অপহরণ, টাকা দাবি ও হত্যার হুমকি দিয়ে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়ার পর ছয় কনস্টেবলকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে তাঁরা জামিনে মুক্তি পান।

তদন্ত শেষে একই বছরের ৪ ডিসেম্বর পিবিআই চট্টগ্রামের উপপরিদর্শক (এসআই) কামাল আব্বাস ছয় কনস্টেবলের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে বলা হয়, ৩ ফেব্রুয়ারি রাত দুইটার দিকে কনস্টেবল মাসুদের নেতৃত্বে পুলিশের ছয় সদস্য নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে আবদুল মান্নানের বাড়িতে যান। মাসুদকে ডিবির কর্মকর্তা সাজানো হয়। চারটি মোটরসাইকেলে করে ওই বাড়িতে গিয়ে তাঁরা আবদুল মান্নানকে ঘর থেকে ডেকে তুলে পার্শ্ববর্তী একটি চা-দোকানে নিয়ে যান। ওই সময় পুলিশ সদস্যরা তাঁকে বলেন, তিনি ও তাঁর ভাই জুয়া ও মাদক ব্যবসা করেন। মামলা থেকে বাঁচতে হলে তাঁদের ১০ লাখ টাকা দিতে হবে। পরে মান্নান মুক্তিপণের জন্য স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষে আদালত এই রায় দেন।

জানতে চাইলে মামলার বাদী আবদুল মান্নান আজ বিকেলে এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। দুই দফায় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত আছেন বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।