
খামারের ভেতরে সারিবদ্ধভাবে বাঁধা অন্তত ৪৫টি ষাঁড়। তবে সবার নজর দুটিতে। খামারমালিক একটির নাম দিয়েছেন লাল বাহাদুর আরেকটির কালো মানিক। গায়ের রঙের সঙ্গে মিলিয়েই এমন নাম। দুটি মিলিয়ে দাম চাওয়া হচ্ছে ১৫ লাখ।
গত শুক্রবার বেলা ১১টায় কক্সবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সমিতিপাড়ায় ‘মায়ের দোয়া ডেইরি ফার্মে’ গিয়ে দেখা যায় এ চিত্র। খামারটিতে ‘অস্ট্রেলিয়ান’, ‘ডাবসি’, ‘শাহিওয়াল’, ‘টাইগার’, ‘বাহুবলী’, ‘শাহেনশাহ’, ‘কালা বাহাদুর’, ‘বুলেট কিং’, ‘ডেঞ্জার লালু’সহ বিভিন্ন নামের ষাঁড় রয়েছে। এসব ষাঁড়ের ওজন ৬ থেকে ১৩ মণ। প্রতিটির দাম চাওয়া হচ্ছে দুই থেকে চার লাখ টাকা।
খামারমালিক নুরুল ইসলাম বলেন, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে তিনি গরুগুলো লালন-পালন করেন। ক্রেতাদের নজর বেশি লাল বাহাদুর ও কালো মানিকের দিকে। কয়েকজন ক্রেতা ছয় লাখ টাকায় লাল বাহাদুর এবং পাঁচ লাখ টাকায় কালো মানিক কিনতে চেয়েছেন। কিন্তু ১৫ লাখ টাকার কমে ষাঁড় দুটি বিক্রি করবেন না।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খামারে পাঁচজন কর্মচারী গরুগুলোর দেখভাল করছেন। কেউ গোসল করাচ্ছেন, কেউ খাবার দিচ্ছেন। বেশির ভাগ গরু সারিবদ্ধভাবে বাঁধা থাকলেও লাল বাহাদুর ও কালো মানিককে আলাদা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ২২ মণ ওজনের লাল বাহাদুরের দাম চাওয়া হচ্ছে ৮ লাখ টাকা, আর ২০ মণ ওজনের কালো মানিকের দাম ৭ লাখ টাকা।
খামারের কর্মচারীরা জানান, দুটি ষাঁড়কে প্রতিদিন ১৫ কেজি সবুজ ঘাস, ১৭ কেজি ভুসিসহ নানা ধরনের খাবার খাওয়ানো হয়। মোটাতাজাকরণে কোনো ধরনের ওষুধ ব্যবহার করা হয় না। লাল বাহাদুরের দৈর্ঘ্য ৯ ফুট ১ ইঞ্চি ও উচ্চতা ৫ ফুট ২ ইঞ্চি। কালো মানিকের দৈর্ঘ্য ৮ ফুট ও উচ্চতা ৫ ফুট। দুই ষাঁড়ের বয়স প্রায় তিন বছর।
খামারের মালিক নুরুল ইসলাম বলেন, ২০১৭ সালে একটি গাভি দিয়ে তাঁর খামারের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে খামারে গরুর সংখ্যা ৭৭। গত বছর খামার থেকে প্রায় ৩২ লাখ টাকা আয় করেছেন। ঘাস, খইল, ভুসি, খড়, ভাতের মাড়সহ প্রাকৃতিক খাবারে এবার কোরবানির জন্য ৪৫টি ষাঁড় প্রস্তুত করেছেন। ইতিমধ্যে কয়েকটি গরু বিক্রিও হয়েছে। তবে লাল বাহাদুর, কালো মানিকসহ অধিকাংশ গরু হাটে তোলা হবে।
তবে সীমান্ত দিয়ে চোরাই পথে আসা গরুর কারণে স্থানীয় খামারিরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ করেন নুরুল ইসলাম। তাঁর দাবি, কম দামে রোগাক্রান্ত চোরাই গরু বাজারে আসায় দেশি খামারিরা প্রতিযোগিতায় টিকতে হিমশিম খাচ্ছেন। রামু ও ঈদগাঁও উপজেলার কয়েকজন খামারি জানান, নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত দিয়ে প্রায়ই মিয়ানমারের গরু ও মহিষ পাচার হয়ে জেলার বিভিন্ন হাটে পৌঁছাচ্ছে। এসব পশুর অনেকগুলো রোগাক্রান্ত হওয়ায় দেশি গরুর মধ্যেও সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
কক্সবাজার সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. মাহাবুবুর রহমান বলেন, চোরাই গরুর কারণে স্থানীয় খামারিরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন,এমন অভিযোগ তাঁরা পাচ্ছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, এবার কক্সবাজার জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা ১ লাখ ৩৪ হাজার ২৯৫টি। জেলার খামারি ও চাষিদের কাছে প্রস্তুত রয়েছে ১ লাখ ৫৮ হাজার ১৬৩টি পশু। ফলে জেলায় পশুর কোনো সংকট হবে না। এবার জেলার ৯টি উপজেলায় স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে ৫৬টি পশুর হাট বসবে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এ এম খালেকুজ্জামান বলেন, কোরবানির পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য মাঠপর্যায়ে বিশেষজ্ঞ ভেটেরিনারি চিকিৎসকদের সমন্বয়ে ২৭টি মেডিক্যাল টিম কাজ করবে।