
হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। আজ শুক্রবার দুপুরে সিলেট সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মামলার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি এই অভিযোগ করেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘মাইর তো ওরা খায় নাই। খাইছি আমরা। তাহলে আমি মামলা করব না? এটা (পাল্টা মামলা) তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশে হয়েছে। জি কে গউস তারেক রহমানের অনুসারী। এই গ্যাংয়ের মধ্যে ধরেন এ্যানি ভাই আছে, জি কে গউস আছে, তাদের একটা গ্যাং আছে। তারা হলো চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, সন্ত্রাসী করে টাকা ওঠাবে, তারেক রহমানের গুলশান অফিসে জমা দেবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা এটার ধিক্কার জানাচ্ছি তারেক রহমানের প্রতি। উনি ন্যূনতম রাজনীতির কার্টেসি রাখতেছেন না।’
গত মঙ্গলবার বিকেলে হবিগঞ্জে ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শেষে এনসিপি নেতাদের গাড়িবহরে হামলা ও নেতা-কর্মীদের মারধর করা হয়। হামলার জন্য ক্ষমতাসীন বিএনপি ও ছাত্রদলকে দায়ী করে এনসিপি। ওই দিন সন্ধ্যায় শহরে এনসিপি প্রতিবাদ মিছিল বের করলে আরেক দফা সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় বুধবার রাতে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের বাদী হয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজীব আহমেদকে প্রধান আসামি করে ১১১ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন।
পরে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে মোট ৫০ জনের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন (রুকন)। মামলায় হত্যাচেষ্টা, হামলা, ভাঙচুর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ করা হয়।
ছিনতাইয়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘কার ফোন? আইফোন? জি কে গউসের আইফোন ছিল নাকি? নাকি তারেক রহমানের আইফোন ছিল? তারেক রহমান অবশ্য আইফোন ব্যবহার করেন না। এটা খুবই লজ্জাজনক। তারা যা করতাছে, তারেক রহমান বাংলাদেশে যা করতাছে, এটা বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য লজ্জা। রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে অপসংস্কৃতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে।’
‘তারেক রহমান ও বিএনপির মানসম্মান ছিনতাই হয়েছে’
মামলার প্রতিক্রিয়ায় একই স্থানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এনসিপি নেতা সারজিস আলম। ছিনতাইয়ের অভিযোগ নিয়ে সারজিস আলম বলেন, ‘ছিনতাই একটা হয়েছে। ছিনতাইটা কী হয়েছে? তারেক রহমান ও বিএনপির মানসম্মান ছিনতাই হয়েছে। ছিনতাইটা তারা করেছে, তাদের কাজের মধ্য দিয়ে ছিনতাই করেছে।’
সারজিস আলম আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের সামনে তাদের তো মুখ দেখানোর মতো অবস্থা নাই। ছাত্রদল যেটা করেছে, কতটা অথর্ব হলে এত মানসম্মান চলে যাওয়ার পরে আবার এমন একটা কাজ করে, যেটা দিয়ে মানুষের কাছে হাসির খোরাক হয়। এটা হচ্ছে তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক অবস্থা।’
তিনি বলেন, ‘আমি তো শুধু এইটুকুই চিন্তা করি, যেখানে মামলাটা নেওয়া হলো, যে মামলাটা লিখেছে, সে-ও হয়তো মনে মনে ওদের গালি দিচ্ছিল, যারা তাকে মামলাটা লিখতে বাধ্য করেছে।’