ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান। শুক্রবার সন্ধ্যায় বোয়ালমারী স্টেডিয়ামে
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান। শুক্রবার সন্ধ্যায় বোয়ালমারী স্টেডিয়ামে

পরিবারতান্ত্রিক সরকার চাই না, চাই জনগণের সরকার: জামায়াতের আমির

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘একটা ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে আগামী ১২ তারিখ আমাদের মুক্তির হাতছানি দিচ্ছে। ৫৪ বছরে যাঁরা রাজনীতি করেছেন, অনেকেই চেষ্টা করেছেন। আমরা কারও আন্তরিকতার ওপর কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করতে চাই না। তাঁরা তাঁদের যোগ্যতা ও আন্তরিকতা দিয়ে যেটুকু পেরেছেন, বাংলাদেশ এবং তার জনগণকে দিয়েছেন। কী দিয়েছেন, কী দিতে পারেননি—তার সবকিছুর সাক্ষী এ দেশের ১৮ কোটি মানুষ।’

শুক্রবার সন্ধ্যায় ফরিদপুরের বোয়ালমারী স্টেডিয়ামে ফরিদপুর-১ (বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা-মধুখালী) আসনে জামায়াত ও ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী ইলিয়াস মোল্লার সমর্থনে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। পরে তিনি ইলিয়াস মোল্লার হাতে প্রতীক তুলে দিয়ে সবার কাছে ভোট চান।

নড়াইলে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান। শুক্রবার বিকেলে নড়াইল সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে

শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা আর চাই না, দেশের মাটিতে শুধু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হওয়ার কারণে দমন-পীড়নের শিকার হয়ে তাকে খুন করা হোক, গুম করা হোক, আয়নাঘরে পাঠানো হোক, মিথ্যা মামলা দিয়ে কাউকে নাজেহাল করা হোক। এই বাংলাদেশ আমরা আর চাই না।’

জামায়াতের আমির বলেন, ‘আমি কোনো দলের সরকার চাই না, কোনো পরিবারতান্ত্রিক সরকার চাই না, কোনো গোষ্ঠীতান্ত্রিক সরকার আমি চাই না, আমি চাই জনগণের সরকার। আমি চাই ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ। আর ধর্মে-বর্ণে-জাতিতে বিভক্ত করার সুযোগ আমরা কাউকে দেব না, ইনশা আল্লাহ। এই বাংলাদেশকে সব ধর্মের, বর্ণের মানুষকে ফুলের বাগানের মতো আমরা সাজাব।’

শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘ওই বাংলাদেশটা চাই না, যেখানে বিভিন্ন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভাইবোনদের ওপর নির্যাতন করা হয়। আমরা ওই বাংলাদেশটাও চাই না, যেখানে হাজার হাজার লাখ লাখ শিক্ষিত বেকার যুবকের মিছিল হয়। ওই বাংলাদেশ আমরা চাই না, যে বাংলাদেশে বিচার অর্থের বিনিময়ে বিক্রি হয়। ওই বাংলাদেশ আমরা চাই না, যার পকেটের জোর নেই, যার বাহুতে বল নেই, যার গোষ্ঠীর জোর নেই অথবা দলীয় শক্তি নেই, তার কোনো বিচার নেই। ওই বাংলাদেশ চাই না।’

জামায়াতের আমির আরও বলেন, ‘শিশু জন্ম নেওয়ার পর শুধু গরিবের ঘরে জন্ম নিয়েছে এ কারণে তার শিক্ষার কোনো ব্যবস্থা হবে না, সেই বাংলাদেশ চাই না। আমরা বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো একটা বাংলাদেশ চাই। ওই বাংলাদেশটা চাই, যে বাংলাদেশে আমার মায়ের সম্পদ, ইজ্জত এবং জীবনের ওপর আর কেউ কোনো হামলা করার দুঃসাহস দেখাবে না।’

‘পুরোনো রাজনীতিতে ফিরে যেতে চাই না’

এর আগে বিকেলে নড়াইল সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতের আমির। পরে তিনি নড়াইলের দুটি আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে দলীয় প্রতীক তুলে দেন।

জনসভায় চব্বিশের আন্দোলনে রক্ত ও জীবন দেওয়া বীরদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই বাংলাদেশে এখন স্বস্তির নিশ্বাস চাই। আর পুরোনো রাজনীতিতে ফিরে যেতে চাই না। এই পুরোনো রাজনীতি বাংলাদেশকে আগায় যেতে দেয় নাই। পায়ে গিঁট দিয়ে আটকে রেখেছে, সামনে আগাইতে দেয় নাই। আমরা সেই বাংলাদেশকে আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে পাল্টে দিতে চাই। সেই সুযোগ আগামী ১২ তারিখ।’

জামায়াতের আমির বলেন, ‘বলতে গেলে সমাজে কেউ ভালো নেই। এই ভালো থাকাটা কে তৈরি করবে? এই ভালোর জায়গাটা সে–ই তৈরি করবে, যার সমাজের প্রতি দরদ, দায় এবং ভালোবাসা আছে। যে সমাজের ওপর জুলুম করে, সে এটা পারবে না।’

নেতা-কর্মীদের ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘যোদ্ধারা তৈরি থাকুন। কোনো কালো চিল এবং শকুন আসমান থেকে জমিনে নেমে কোনো একটা মানুষের ভোটও যেন ছোঁ মেরে নিয়ে যেতে না পারে। যদি এ রকম আসে, দুই ডানা খুলে ফেলবেন।’ তিনি বলেন, ‘যদি কোনো দুর্বৃত্ত অন্য কোনো নাগরিকের ভোটের দিকে হাত বাড়ায় অথবা কেউ যদি ইঞ্জিনিয়ারিং করতে চাই, মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করে বলছি, কাউকে ছাড় দিয়ে কথা বলব না।’