সরাইল উপজেলার অরুয়াইল ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামে অবস্থিত কাকরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। আজ বৃহস্পতিবার সকালে
সরাইল উপজেলার অরুয়াইল ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামে অবস্থিত কাকরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। আজ বৃহস্পতিবার সকালে

কাকরিয়া গ্রামে রাজাপুর নামে স্কুল, রাজাপুরের স্কুলের নাম কাকরিয়া, ভোট এলে বাড়ে বিড়ম্বনা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার হারওবেষ্টিত অরুয়াইল ইউনিয়নের কাকরিয়া ও রাজাপুর গ্রাম দুটি মেঘনা নদীর তীরে পাশাপাশি অবস্থিত। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন কাকরিয়া গ্রামটি ৭ নম্বর আর রাজাপুর গ্রামটি ৫ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত। সর্বশেষ হিসাব অনুসারে কাকরিয়া গ্রামের ভোটার সংখ্যা ১ হাজার ৮৫৩ আর রাজাপুর গ্রামের ভোটার সংখ্যা ৫ হাজার ৮২ জন। গ্রাম দুটিতে দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। একটি থেকে অপরটির দূরত্ব প্রায় দেড় কিলোমিটার।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিদ্যালয় দুটির নামের রয়েছে অসংগতি। কাকরিয়া গ্রামে অবস্থিত বিদ্যলয়টির নাম ‘রাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ আর রাজাপুর গ্রামে অবস্থিত বিদ্যালয়টির নাম ‘কাকরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’। এতে ভোট গ্রহণসহ নানা কাজে কর্তৃপক্ষের বিড়ম্বনা ও ভোগান্তির অন্ত নেই।

উপজেলা প্রশাসন ও গ্রাসবাসী সূত্রে জানা গেছে, ১৯৫৭ সালে কাকরিয়া গ্রামের বাসিন্দা তৎকালীন ইউপি সদস্য জলধর দাস প্রতিষ্ঠা করেন কাকরিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। ১৯৬৫ সালে নদীভাঙনের শিকার হয়ে বিদ্যলয়টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তখন পার্শ্ববর্তী রাজাপুর গ্রামের লোকজন বিদ্যালয়টি তাঁদের গ্রামে নিয়ে স্থাপন করেন। ওই সময়ে রাজাপুরবাসী বিদ্যালয়টির নাম পরিবর্তন না করে কাকরিয়া নামেই রেখে দেন। ১৯৭৩ সালে রাজাপুরে অবস্থিত কাকরিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হয়।

কাকরিয়া গ্রামের বাসিন্দা জলধর দাসের ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা চন্দ্রেশ্বর দাস ১৯৭৪ সালে কাকরিয়া গ্রামে পূর্বের জায়গায় নতুন করে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। এটির নাম দেন কাকরিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়। এতে তিনি বাধার সম্মুখীন হন। পরবর্তী সময়ে তিনি বিদ্যালয়টির নামকরণ রাজাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় করতে বাধ্য হন। ২০১৩ সালে এটিও জাতীয়করণ করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিদ্যালয় দুটির নামের অসংগতির কারণে নানা রকম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। সরকারি কোনো বরাদ্দ এলে দুই বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ পড়েন ভোগান্তিতে। শিক্ষক বদলি বা শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি নিয়েও বাধে জটিলতা।

জাতীয় বা স্থানীয় নির্বাচন এলে দুটি বিদ্যালয়েই ভোটকেন্দ্র পড়ে। এতে নির্বাচনী কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা গ্রামের নামে বিদ্যালয় চিন্তা করে চলে যান ভুল পথে। আবার কোনো কর্মকর্তা বিদ্যালয় পরিদর্শনে গেলেও পড়েন বিড়ম্বনায়। তখন তাঁরা গ্রামবাসীদের নানা রকম কটূক্তি করে থাকেন।

কাকরিয়া গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা সাহের উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিদ্যালয় দুটির নাম ঠিক করা খুব কঠিন কাজ নয়। শুধু কর্তৃপক্ষের অবহেলায় তা হচ্ছে না। বিষয়টি কষ্টদায়ক।’

কাকরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়ের নামের সঙ্গে গ্রামের মিল নাই। বিদ্যালয় দুটির নামের গরমিলের কারণে আমাদের অনেক সমস্যায় পড়তে হয়। প্রতিটি নির্বাচনের দিন আমাকে অনেক ভোগান্তিতে পড়তে হয়। নাম ঠিক করার জন্য আমরা অনেক লেখালেখি করেছি। কাজ হয়নি।’

সরাইল উপজেলার অরুয়াইল ইউনিয়নের কাকরিয়া গ্রামে অবস্থিত রাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। আজ বৃহস্পতিবার সকালে

বিষয়টি নজরে আনা হলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নৌসাদ মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওই দুটি বিদ্যালয়ের ওলটপালট নামের বিষয়টির আমি জানি। নাম সংশোধনের জন্য আমাদের দপ্তর থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো আছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিষয়টির সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু বকর সরকার প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিদ্যালয় দুটির ওলটপালট নাম দেখে অবাক হয়েছি। এ নাম সংশোধনের চেষ্টা চালাব।