টেকনাফ সমুদ্র সৈকতে আর্জেন্টিনার বিশাল পতাকা
টেকনাফ সমুদ্র সৈকতে আর্জেন্টিনার বিশাল পতাকা

নাফের তীরে মানুষ এখন দুই শিবিরে বিভক্ত, একদল আর্জেন্টিনা অন্য দল ব্রাজিল

সড়কের দুই পাশে উড়ছে শত শত আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের পতাকা। বাজারের দোকানে দোকানেও ঝুলছে দুই দলের জার্সি। বিকেল গড়ালেই কোথাও প্রীতি ফুটবল ম্যাচ, কোথাও মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা, আবার কোথাও প্রিয় দলের জয়ধ্বনি।

দেশের সর্ব দক্ষিণের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের দৃশ্য এটি। বিশ্বকাপের মূল আসর শুরু হওয়ার আগেই পুরো উপজেলা যেন আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল শিবিরে বিভক্ত হয়ে গেছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) মধ্যরাতে মেক্সিকোর ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী ম্যাচের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। কিন্তু টেকনাফে বিশ্বকাপের আমেজ শুরু হয়েছে প্রায় এক মাস আগে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিনই হচ্ছে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, শোভাযাত্রা, কনসার্ট ও ফুটবল ম্যাচ। স্থানীয় ব্যক্তিদের পাশাপাশি টেকনাফে বেড়াতে আসা পর্যটকেরাও বিষয়টি উপভোগ করছেন।

নাফ নদীর তীরে অবস্থিত টেকনাফের পূর্ব পাশে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য। সীমান্তজুড়ে নানা সময় মাদক চোরাচালান, নিরাপত্তা উদ্বেগ ও উত্তেজনার খবর শোনা গেলেও এসবের বাইরে এখন মানুষের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু বিশ্বকাপ ফুটবল।

টেকনাফে ব্রাজিল সমর্থকগোষ্ঠীর মোটর শোভাযাত্রা

স্থানীয় খেলোয়াড় ও ক্রীড়াসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, টেকনাফের বাসিন্দাদের বড় একটা অংশ ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থক। বাকি অংশ জার্মানি, পর্তুগাল, ফ্রান্স ও স্পেনসহ বিভিন্ন দলের সমর্থক। টেকনাফ উপজেলা খেলোয়াড় সমিতির সহসভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘এখানে বিশ্বকাপ এলেই মূলত আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলকে ঘিরেই উৎসব হয়। অন্য দলের সমর্থক থাকলেও সংখ্যায় কম। তাই তাঁদের আয়োজনও তুলনামূলক ছোট।’

এই সমর্থনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। প্রবীণ ফুটবল খেলোয়াড় নুরুল হুদা বলেন, আশির দশকে টেলিভিশনের মাধ্যমে বিশ্বকাপ দেখা শুরু করেন টেকনাফের মানুষ। পেলের ব্রাজিলের গল্প এবং ১৯৮৬ সালে ডিয়েগো ম্যারাডোনার নেতৃত্বে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয় তৎকালীন তরুণদের গভীরভাবে প্রভাবিত করে। সেই প্রজন্মের সমর্থন পরে পরিবার ও সমাজের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা আর্জেন্টিনা সমর্থক রাশেদ আরমান বলেন, ‘আমরা ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন দলের সমর্থক। আমাদের প্রজন্ম মেসির হাতে বিশ্বকাপ উঠতে দেখেছে। তাই তাঁর প্রতি আলাদা আবেগ আছে। আশা করি এবারও ভালো কিছু হবে।’

অন্যদিকে ব্রাজিল সমর্থক ফরহাদুজ্জামান ও মোরশেদ আলম বলেন, নেইমারের নান্দনিক ফুটবল ও ব্রাজিলের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন এখনো সমর্থকদের টানে।

টেকনাফে আর্জেন্টিনা সমর্থকগোষ্ঠীর মোটর শোভাযাত্রা

বিশ্বকাপ ঘিরে টেকনাফে পাল্টাপাল্টি শক্তি প্রদর্শনও কম হচ্ছে না। গত ২৫ মে টেকনাফ সদরে কয়েক শ ব্রাজিল সমর্থক তরুণ মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা বের করেন। ‘ব্রাজিল সমর্থক গোষ্ঠী’র ব্যানারে আয়োজিত শোভাযাত্রাটি টেকনাফ স্থলবন্দর এলাকা থেকে শুরু হয়ে মেরিন ড্রাইভে গিয়ে শেষ হয়। এর জবাবে ৫ জুন ‘আর্জেন্টিনা সমর্থক গোষ্ঠী’ টেকনাফ পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠ থেকে মেরিন ড্রাইভ পর্যন্ত শোভাযাত্রা ও কনসার্টের আয়োজন করে।

বিশ্বকাপকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি ব্যস্ততা এখন জার্সির দোকানগুলোতে। টেকনাফ পৌরসভার নিউ গণি মার্কেটের রায়হান ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের ব্যবস্থাপক মো. মামুন বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে আর্জেন্টিনার জার্সি। এরপর ব্রাজিল ও জার্মানির জার্সির চাহিদা আছে।’

সাবরাং বাজারে অস্থায়ী দোকান বসিয়ে জার্সি বিক্রি করছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. আব্দুল্লাহ সোহাগ। তিনি বলেন, ‘গ্রামের অনেক মানুষ শহরে গিয়ে জার্সি কিনতে পারেন না। তাই স্থানীয়ভাবে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছি। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০ হাজার টাকার জার্সি বিক্রি হচ্ছে।’