হত্যা মামলার আসামির বয়স কমাতে ভুয়া জন্মনিবন্ধন সনদ দাখিলের অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মানচিত্র
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মানচিত্র

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে হত্যা মামলা থেকে রক্ষা পেতে এক তরুণকে শিশু বানিয়ে আদালতে ভুয়া জন্মনিবন্ধন সনদ জমা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন বাদী। ওই জন্মনিবন্ধন সনদ বাতিলের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে ২৫ সেপ্টেম্বর লিখিত আবেদন করেছেন বাদী আবদুল কাদির (৪০)।

ওই আসামির নাম হোসেন আলী। তিনি উপজেলা সদরের নোয়াহাটি গ্রামের শাহবাজ আলীর ছেলে। ২০২১ সালের ১৭ মার্চ হোসেন আলীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়। এজাহারে হোসেন আলীর বয়স ২০ বছর উল্লেখ করা হয়েছিল। ওই হিসাবে বর্তমানে তাঁর বয়স ২১ বছর।

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৬ মার্চ নোয়াহাটি গ্রামের আবদুল কাদিরের একমাত্র মেয়ে কাশফিয়া আক্তারকে (৮) শ্বাসরোধে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। পরদিন পুলিশ কাশফিয়ার লাশ উদ্ধার করে। ওই দিনই কাশফিয়ার বাবা আবদুল কাদির তিনজনের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশ হোসেন আলীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ও আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে হোসেন আলীসহ দুই আসামি হত্যার দায় স্বীকার করেন। বর্তমানে হোসেন আলীসহ দুই আসামি কারাগারে। আরেক আসামি জামিনে।

গত বছরের ২৭ জুন পুলিশ আদালতে মামলার অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে। অভিযোগপত্রেও হোসেন আলীর বয়স ২০ বছর বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বাদী আবদুল কাদিরের অভিযোগ, প্রধান আসামি হোসেন আলীকে আদালতে শিশু প্রমাণের জন্য তাঁর পরিবার ৪ সেপ্টেম্বর সরাইল সদর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) থেকে নতুন একটি জন্মসনদ সংগ্রহ করে। সনদে হোসেন আলীর জন্মতারিখ দেখানো হয়েছে ২০০৫ সালের ১ জানুয়ারি। অর্থাৎ ঘটনার সময় হোসেন আলীর বয়স ছিল ১৬ বছর। জন্মসনদে হোসেন আলীর মায়ের নাম লেখা হয়েছে সুমা আক্তার।

আবদুল কাদির প্রথম আলোকে বলেন, ‘হোসেন আলীর মায়ের নাম খোশেদা বেগম। ২০০১ সালের ১৫ নভেম্বর খোশেদা খুন হন। হোসেন আলীর পরিবারের লোকজন সদর ইউপি সচিবের সঙ্গে যোগসাজশ করে নতুন জন্মসনদ তৈরি করেছেন। তাঁরা হোসেন আলীকে রক্ষা করতে শিশু বানিয়েছেন।’

জানতে চাইলে সদর ইউপির চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার প্রথম আলোকে বলেন, মায়ের নাম গোপন করে ও বয়স কম দেখিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে হোসেন আলী নামের এক ব্যক্তির নামে জন্মসনদ নেওয়া হয়েছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। ওই জন্মসনদ বাতিলের প্রক্রিয়া চলছে।

হোসেন আলীর বাবা শাহবাজ আলী প্রথম আলোকে বলেন, সুমা আক্তার হলেন হোসেন আলীর সৎমা। হোসেন আলীর আসল মা ১৮ থেকে ২০ বছর আগে মারা গেছেন। এ জন্য কাগজে সৎমায়ের নাম দেওয়া হয়েছে।

ইউএনও আরিফুল হক প্রথম আলোকে বলেন, এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ইউপির চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।