করলার পাইকারি বাজার। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বাখেরা কোমলগাড়ী গ্রামে
করলার পাইকারি বাজার। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বাখেরা কোমলগাড়ী গ্রামে

হাটে যেতে হয় না, গ্রামেই বসে করলার পাইকারি বাজার

গ্রামের মসজিদের সামনে ফাঁকা জায়গা। তার এক পাশে অস্থায়ীভাবে ত্রিপল টাঙিয়ে তৈরি করা হয়েছে শেড। নিচে সারি করে রাখা করলাভর্তি ব্যাগ ও ক্রেট। দুপুর থেকেই এখানে জড়ো হতে থাকেন কৃষকেরা। জমি থেকে তোলা করলা সরাসরি নিয়ে আসেন পাইকারি ক্রেতাদের কাছে।

এটি কোনো সরকারি ইজারাভুক্ত হাট নয়। জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বাখেরা কোমলগাড়ী গ্রামের এই বাজারে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ মণ করলার পাইকারি বেচাকেনা হয়। প্রায় ১৫ বছর ধরে গ্রামের ভেতরের এই জায়গাটি করলার পাইকারি কেনাবেচার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, করলা বাছাই করে ব্যাগ ও ক্রেটে ভরা হচ্ছে। পরিবহনের জন্য পাশে অপেক্ষা করছে পিকআপ। আগের দিন সন্ধ্যায় করলা বিক্রি করা দুই কৃষক পাইকারের কাছ থেকে পাওনা টাকা নিচ্ছিলেন।

স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা বলেন, বর্তমানে পাঁচ-ছয়জন পাইকারি ক্রেতা এখানে কৃষকদের কাছ থেকে করলা কিনছেন। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত চলে কেনাবেচা। পরদিন সকাল থেকে এসব করলা পিকআপে করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার বাজারে পাঠানো হয়।

কৃষকেরা জানান, সবচেয়ে কাছের স্থানীয় চৌমুহনী হাটের দূরত্ব বাখেরা কোমলগাড়ী গ্রাম থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার। সপ্তাহে দুই দিন শনিবার ও মঙ্গলবার সেখানে হাট বসে। এ ছাড়া ক্ষেতলাল পৌরসভার ইটাখোলা হাটের দূরত্ব প্রায় ছয় কিলোমিটার। তাই গ্রামের এই বাজারে করলা বিক্রি করে কৃষকেরা সুবিধা পাচ্ছেন। জমি থেকে করলা তুলে সরাসরি এখানে এনে বিক্রি করেন তাঁরা। এতে সময় বাঁচে, হাটে নেওয়ার পরিবহন খরচও লাগে না।

সারি করে রাখা করলাভর্তি ব্যাগ ও ক্রেট। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ক্ষেতলালের বাখেরা কোমলগাড়ী গ্রামে

গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, এক মণ করলা ২ হাজার ৪০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। তাঁকে সাপ্তাহিক হাটের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে না। এ ছাড়া হাটে বিক্রি করতে গেলে তাঁর খরচও বেড়ে যেত।

বগুড়া শহরের বাসিন্দা ও করলার পাইকারি ক্রেতা বাবু মণ্ডল জানান, বাখেরা কোমলগাড়ী গ্রামের বাজারে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ মণ করলা বেচাকেনা হয়। তিনিসহ আরও কয়েকজন ব্যবসায়ী কৃষকদের কাছ থেকে নিয়মিত করলা কিনে নেন।

করলা পরিবহনের জন্য বাজারের পাশে অপেক্ষা করছে একটি পিকআপ। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ক্ষেতলালের বাখেরা কোমলগাড়ী গ্রামে

স্থানীয় বাসিন্দা মুরশিদুল ইসলাম জানান, আশপাশের গ্রামের মাঠে করলার চাষ বেশি হওয়ায় প্রায় ১৫ বছর আগে পাইকারি ক্রেতারা এখানে করলা কেনা শুরু করেন। ধীরে ধীরে কৃষকের সংখ্যা ও করলার পরিমাণ বাড়তে থাকায় জায়গাটি করলা পাইকারি কেনাবেচার কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

ক্ষেতলাল উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মাসউদ পারভেজ বলেন, উপজেলার ৬০ হেক্টর জমিতে করলার আবাদ হয়েছে। বাখেরা কোমলগাড়ী গ্রামে প্রতিদিন করলার পাইকারি বাজার বসে। সেখানে কৃষকেরা করলার ন্যায্য দাম পান।