চট্টগ্রাম আদালত ভবন
চট্টগ্রাম আদালত ভবন

থানা ভাঙচুরের সময় ছিলেন কারাগারে, তবু ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখাতে আবেদন পুলিশের

ঘটনার সময় আসামি ছিলেন কারাগারে। আর পুলিশ বলছে, থানা ভাঙচুর, লুটপাটে জড়িত। ফলে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনও করা হয় আদালতে। বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন আসামির আইনজীবী। পরে কারা কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদনে আসামির কারাগারে থাকার তথ্য নিশ্চিত হলে আদালত গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন বাতিল করেন এবং আবেদনকারী পুলিশ কর্মকর্তাকে কারণ দর্শাতে (শোকজ) নির্দেশ দেন।

গতকাল বুধবার শুনানি শেষে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদ সাত্তার এ আদেশ দেন।

আদালত সূত্র জানায়, নুর হোসেন নামের এক আসামি গত বছরের (২০২৫) ৩১ জানুয়ারি থেকে নগরের আকবর শাহ থানার একটি মামলায় কারাগারে রয়েছেন। এ অবস্থায় পাহাড়তলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফুজ্জামান খান ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পাহাড়তলী থানায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের মামলায় নুর হোসেনকে জড়িত সন্দেহে চলতি মাসের ২২ জানুয়ারি আদালতে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।

গত সোমবার এ বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য থাকলে আসামির আইনজীবী আদালতকে জানান, যে ঘটনার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে, সে সময় নুর হোসেন কারাগারে ছিলেন। এরপর আদালত চট্টগ্রাম কারা কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন চান এবং একই সঙ্গে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনকারী পুলিশ কর্মকর্তাকে আদালতে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেন।

পরদিন মঙ্গলবার চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের কারাধ্যক্ষ সৈয়দ শাহ শরীফ আদালতে পাঠানো এক চিঠিতে জানান, নুর হোসেন নামের ওই বন্দী ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই থেকে ২১ আগস্ট পর্যন্ত সীতাকুণ্ড থানার একটি মামলায় কারাগারে আটক ছিলেন। পরে ২২ আগস্ট তিনি জামিনে মুক্তি পান। পরের বছর ২০২৫ সালের ৩১ জানুয়ারি আরেকটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তিনি কারাগারে আসেন।

আসামির আইনজীবী নয়ন মণি দাস প্রথম আলোকে বলেন, কারা কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদন পাওয়ার পর আদালত গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন বাতিল করেছেন। একই সঙ্গে আবেদনকারী পুলিশ কর্মকর্তার কাছে কারণ ব্যাখ্যা চেয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাহাড়তলী থানার এসআই আরিফুজ্জামান খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘তাড়াহুড়ো করে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করায় বিষয়টি জানা ছিল না যে আসামি ঘটনার সময় কারাগারে ছিলেন। যথাযথভাবে যাচাই করার সুযোগ পাওয়া যায়নি। আদালত কারণ ব্যাখ্যা চেয়েছেন।’