
নওগাঁ শহরের নামাজগড় মাদ্রাসাপাড়া এলাকা থেকে এক মাদ্রাসাছাত্রের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ রোববার সকাল সাতটার দিকে নামাজগড় মাদ্রাসাপাড়ায় অবস্থিত হাউসুল আজম এতিমখানার আবাসিক ভবনের পাশ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত শিক্ষার্থীর নাম আবদুল্লাহ আল নীরব (১৪)। সে পাবনা জেলার আটঘরিয়া উপজেলার চাদভা গ্রামের রুবেল হোসেনের ছেলে। নওগাঁ শহরের নামাজগড় গাউসুল আজম আলিম মাদ্রাসায় অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত সে।
নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে জানান, নিহত শিক্ষার্থীর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতে চিহ্ন পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ, আবাসিক শিক্ষার্থী ও থানা-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নীরব গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে এতিমখানা–সংলগ্ন মসজিদে অন্য আবাসিক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নামাজ পড়তে যায়। এশার নামাজ শেষে রাত ৯টার দিকে শহরের রজাকপুর এলাকায় তাঁর চাচার বাড়িতে রাতের খাবার খেতে যায়। রাতের খাবার খেয়ে ফেরার পথে মাদ্রাসাপাড়ায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে তাকে দেখা যায়। এ সময় সেখানে এতিমখানার আবাসিক হলের কয়েকজন শিক্ষার্থীও ছিল। অন্যরা রাত ১০টার মধ্যে এতিমখানা আবাসিক হলে প্রবেশ করলেও নীরব আর ফেরেনি। এরপর সকালে এতিমখানা আবাসিক ভবনের পাশে স্থানীয় লোকজন তার লাশ পড়ে থাকতে দেখতে পান। পরে পুলিশ এসে সকাল সাতটার দিকে তার লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা বেলাল হোসেন বলেন, ‘আমার বাড়ি এতিমখানা ভবনসংলগ্ন। সকালবেলা আমার স্ত্রী বাড়ি থেকে বের হয়েই মাদ্রাসার মূল গেট থেকে কয়েক গজ উত্তরে ওই ছাত্রের লাশ দেখতে পায়। পরে শোরগোল শুনে সেখানে মানুষজন জড়ো হয়ে যায়। এরপর পুলিশ এসে লাশটা উদ্ধার করে নিয়ে গেল। মাদ্রাসার ছাত্র, শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।’
নামাজগড় গাউসুল আজম আলিম মাদ্রাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও এতিমখানা আবাসিক হলের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ বলে, এতিমখানার নিয়ম হলো, রাত ১০টার মধ্যে আবাসিক হলে ঢুকতে হবে। এরপর যে ঢুকবে, তাকে শাস্তি পেতে হয়। অনেক সময় মারধরও করা হয়। নীরব রাতে নাকি ওর চাচার বাড়িতে ভাত খেয়ে আসার পথে মাদ্রাসাপাড়ায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচগান দেখতে গিয়েছিল। সেখানে তাকে অন্য শিক্ষার্থীরা দেখেছে। অন্য শিক্ষার্থীরা রাত ১০টার দিকে গেট বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগেই আবাসিক ভবনে ঢুকলেও নীরব ফিরে আসেনি। এরপর সকালে ভবনের পাশে তার লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নামাজগড় গাউসুল আজম মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জিল্লুর রহমান ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আবদুস ছাত্তার গণমাধ্যমের সামনে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।