শিশু আদিব আহনাফ
শিশু আদিব আহনাফ

অবশেষে জানা গেল রাজশাহীতে শিশু আদিবকে কে হত্যা করেছে

গত রোজায় এক রাতে তারাবিহর নামাজ পড়তে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল ১০ বছরের শিশু আদিব আহনাফ। পরিবারের ধারণা ছিল, নামাজ শেষে সে ফিরে আসবে। কিন্তু রাত গড়িয়ে গেলেও আর ফেরেনি। পরদিন সকালে গ্রামের একটি ঘাসখেতে মিলেছিল তার নিথর দেহ। গলায় প্যাঁচানো ছিল তার নিজের পরনের বেল্ট। শরীরে ছিল আঘাতের চিহ্ন।

তিন মাসের বেশি সময় ধরে আলোচিত ও রহস্যঘেরা এই হত্যাকাণ্ডের কোনো কূলকিনারা করতে পারছিল না পুলিশ। ঘটনার কোনো প্রত্যক্ষদর্শী ছিল না, ছিল না স্পষ্ট কোনো সূত্র। ফলে মামলাটি ধীরে ধীরে ‘ক্লু-লেস’ হত্যাকাণ্ড হিসেবে পরিচিতি পায়। নিহত শিশুর পরিবার ও এলাকাবাসী একাধিকবার কর্মসূচি পালন করেছেন। অবশেষে দীর্ঘ তদন্ত শেষে হত্যার নেপথ্যের কারণ ও জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করার দাবি করেছে রাজশাহী মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। সেই এই হত্যার সঙ্গে জড়িত এক ১৪ বছরের কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নিহত আদিব আহনাফ রাজশাহী মেট্রোপলিটন থানাধীন পবা উপজেলার কর্ণহার থানার বিলধর্মপুর গ্রামের ওষুধ ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমানের ছেলে। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

গোয়েন্দা পুলিশ সূত্র জানায়, গত ১ মার্চ রাতে বাড়ি থেকে তারাবিহর নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে বের হয় আদিব আহনাফ। পরদিন সকালে গ্রামের কৈচাপুকুর এলাকার একটি ঘাসখেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন পরিবারের সদস্যরা।

তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর ডিবির একটি দল তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও গোপন সূত্রের সহায়তায় ঘটনাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে। দীর্ঘ অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদ ও পরে আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে কিশোরটি হত্যার দায় স্বীকার করেছে।

তদন্তে উঠে এসেছে, একটি মেয়েকে ঘিরে ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকেই হত্যার ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ বলছে, অভিযুক্ত কিশোরের সঙ্গে এক মেয়ের শারীরিক সম্পর্ককে দেখে ফেলে আদিব। বিষয়টি জানতে পেরে আদিব ওই মেয়ের মাকে জানিয়ে দেয়। পরে মেয়ের মা ঘটনাটি অভিযুক্ত কিশোরের মাকে জানালে তিনি ছেলেকে মারধর করেন। সেই ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই আদিবকে হত্যার পরিকল্পনা করে ওই কিশোর।

পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, ঘটনার রাতে তারাবিহর নামাজে যাওয়ার পথে আদিবকে কৌশলে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায় অভিযুক্ত কিশোর। সেখানে প্রথমে মাথায় আঘাত করা হয়। পরে শ্বাস রোধ করে তাকে হত্যা করা হয়। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর মরদেহ ফেলে রেখে চলে যায় সে। গত রোববার অভিযানে ওই কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল আদালতে হাজির করা হলে সে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. গাজিউর রহমান বলেন, অভিযুক্ত কিশোরের একটি ঘটনা জেনে যায় ভুক্তভোগী শিশুটি। পরে এই ঘটনা জানাজানি হলে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারপর পরিকল্পনা করে ওই কিশোর একাই শিশুটিকে হত্যা করে।