রূপগঞ্জে গাড়িতে তল্লাশি, বিএনপির নেতা-কর্মীদের নাম লিখে ফেরত পাঠাল পুলিশ

মাইক্রোবাস আটক করে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ফেরত পাঠায় পুলিশ। আজ শুক্রবার সকাল আটটার দিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ তারাব সুলতানা কামাল সেতু এলাকায়
ছবি: প্রথম আলো

ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশে যাওয়ার পথে গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের কয়েক নেতা-কর্মীর নাম লিখে ফেরত পাঠিয়েছে পুলিশ। আজ সকালে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাব সুলতানা কামাল সেতুর পূর্ব পাশে বসানো অস্থায়ী তল্লাশিচৌকিতে এ ঘটনা ঘটে।

আজ সকালে রূপগঞ্জের তারাব সুলতানা কামাল সেতু এলাকায় সরেজমিনে রূপগঞ্জ থানা-পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্যদের যৌথভাবে বিভিন্ন যানবাহনে তল্লাশি চালাতে দেখা গেছে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত অবস্থান করে দেখা যায়, পুলিশ ঢাকামুখী বাস, প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাসে তল্লাশির পাশাপাশি যাত্রীদের কাছে ঢাকায় যাওয়ার কারণ জানতে চাচ্ছে। এ সময় দুজন যাত্রীর মুঠোফোন তল্লাশি করতে দেখা গেছে। সকাল ৮টা ও সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ ঢাকামুখী তিনটি মাইক্রোবাসে তল্লাশি চালিয়ে যাত্রীদের কাছে ঢাকায় যাওয়ার কারণ জানতে চায়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে যাত্রীরা জানান, তাঁরা ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশে যাচ্ছেন। পরে পুলিশ যাত্রীদের নাম–পরিচয় ও মুঠোফোন নম্বর লিখে রেখে তাঁদের বাড়ির পথে ফেরত পাঠায়। এ সময় তিনটি মাইক্রোবাসের মধ্যে দুটি মাইক্রোবাস আটক করা হয়।

ফেরত পাঠানো যাত্রীদের মধ্যে একজন আবদুল কাইয়ুম। নিজেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর পৌরসভা শ্রমিক দলের নেতা পরিচয় দিয়ে কাইয়ুম বলেন, ‘পুলিশ আমাদের মহাসমাবেশে যেতে দেয়নি। তারা আমাদের ১০ জনের নাম-ঠিকানা, মোবাইল নম্বর লিখে রেখেছে। আমাদের গাড়িটি (মাইক্রোবাস) চালকসহ আটক করেছে। পুলিশ হুমকি দিয়ে বলেছে, ঢাকার সমাবেশে গেলে আমাদের নামে গাড়ি ও মোটরসাইকেল চুরির মামলা দেবে। মহাসমাবেশে কোনো গ্যাঞ্জাম হলে আমাদের নামে মামলা করবে।’

কাইয়ুম আরও বলেন, তাঁরা আজ শুক্রবার ভোর চারটায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। পথে অন্তত ছয়টি স্থানে পুলিশের তল্লাশিচৌকি দেখেছেন তাঁরা।
আরেকটি গাড়ির যাত্রী নিজেকে কুমিল্লার তিতাস থানার বিএনপি নেতা বলে পরিচয় দেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের ছয়জনের নাম-ঠিকানা পুলিশের হাতে। যা ঘটেছে, তার সব বলতে পারব না। তবে এটা বলছি, পুলিশ আমাদের সঙ্গে অন্যায় ও অগণতান্ত্রিক আচরণ করেছে।’

ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলা থেকে ঢাকার মহাসমাবেশের উদ্দেশে আসা সাত বিএনপি নেতা-কর্মীকে আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে একই তল্লাশিচৌকি থেকে ফেরত পাঠায় পুলিশ। এ সময় নেতা-কর্মীদের নাম-ঠিকানা রেখে তাঁদের বহন করা মাইক্রোবাসটি চালকসহ আটক করা হয়। পরে ওই মাইক্রোবাসচালক প্রথম আলোকে বলেন, ‘পুলিশ বলছে, মহাসমাবেশ শেষ হলে আমাকে ছেড়ে দেবে।’

এর আগে সকাল ছয়টা থেকে সাড়ে সাতটা পর্যন্ত ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক ঘুরে কদমতলী, সাইনবোর্ড, সানারপাড়, কাঁচপুর সেতুর পূর্ব পাশ, মেঘনা টোল প্লাজা এবং ঢাকা সিলেট মহাসড়কের ভুলতা ও তারাব বিশ্বরোড মোড়ে পুলিশের তল্লাশিচৌকি দেখা গেছে। সম্প্রতি ঢাকায় বিএনপির সমাবেশের আগে বসানো তল্লাশিচৌকিগুলোর তুলনায় আজকের তল্লাশিচৌকিগুলোতে পুলিশের উপস্থিতি ছিল বেশি। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের তৎপরতাও বাড়তে দেখা গেছে।

আজ সকালে কাঁচপুর সেতুর পূর্ব পাশে বসানো পুলিশের তল্লাশিচৌকিতে কথা কয় সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুব আলমের সঙ্গে। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কাঁচপুর সেতু এলাকায় তাঁদের সতর্ক অবস্থান রয়েছে। এটা মূলত মাদক উদ্ধার ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য। এর সঙ্গে রাজধানীর রাজনৈতিক সমাবেশ-মহাসমাবেশের কোনো সম্পর্ক নেই।

তারাব থেকে বিএনপি নেতা-কর্মীদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (গ-সার্কেল) আবির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, সমাবেশকে কেন্দ্র করে মাদক, অস্ত্রসহ অবৈধ কোনো কিছু যেন ঢাকায় প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য মহাসড়কে তাঁরা সতর্ক অবস্থানে আছেন। রাজনৈতিক মিছিল–মিটিংয়ে যাওয়া প্রতিটি নাগরিকের রাজনৈতিক অধিকার। বিএনপি নেতা-কর্মীদের ফিরিয়ে দেওয়ার কোনো ঘটনা তাঁর জানা নেই।