
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরাজিত হওয়া সাবিরা সুলতানা সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী সাবিরা সুলতানা জামায়াতের প্রার্থী মোসলেহ উদ্দীন ফরিদের কাছে ৩৪ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। এবার সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য হিসেবে সাবিরা সুলতানাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর সাবিরা সুলতানা বলেছিলেন, দলের মনোনয়নবঞ্চিত নেতারা নির্বাচনে কাজ না করায় তিনি পরাজিত হয়েছেন। স্থানীয় নেতৃত্বের একাংশ জামায়াত প্রার্থীর সঙ্গে আঁতাত করে তাঁকে হারিয়ে দিয়েছে। এরপর ঝিকরগাছা ও চৌগাছা উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা সংবাদ সম্মেলন করে সাবিরা সুলতানার এ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান। ওই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমরান সামাদ। পারস্পরিক বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সাবিরা সুলতানা ও স্থানীয় বিএনপির নেতৃত্ব মুখোমুখি অবস্থানে চলে আসে। এ কারণে অভ্যন্তরীণ বিরোধ প্রকাশ্যে রূপ নেয়। সে বিরোধ এখনো দৃশ্যমান।
সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার পর সাবিরা সুলতানা প্রথম আলোকে বলেন, ‘সরাসরি নির্বাচনে আমি হেরে গেছি, নাকি স্থানীয় বিএনপির নেতারা বিরোধিতা করে আমাকে হারিয়ে দিয়েছে, সে তথ্য–প্রমাণ দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে রয়েছে। ত্যাগী হিসেবে দল আমাকে মূল্যায়ন করেছে। আমি দলের প্রতি কৃতজ্ঞ।’
স্থানীয় বিএনপির নেতারা জানান, ঝিকরগাছা ও চৌগাছা উপজেলায় বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল অত্যন্ত প্রকট। এই কোন্দল নিরসন করা সাবিরা সুলতানার জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবিরা সুলতানা বলেন, ‘বিএনপি একটি দল। এই দলের নেতা–কর্মীদের মধ্যে পছন্দ-অপছন্দ থাকতে পারে। আমি ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই।’
সাবিরা সুলতানা যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও যশোর জেলা বিএনপির সাবেক অর্থবিষয়ক সম্পাদক প্রয়াত নাজমুল ইসলামের স্ত্রী। ২০১১ সালের ১৪ ডিসেম্বর রাতে ঢাকার মোহাম্মদপুর থানার পাশ থেকে ব্যক্তিগত গাড়িসহ অপহৃত হন নাজমুল। পরদিন ১৫ ডিসেম্বর ভোরে গাজীপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ সালনা এলাকার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশ থেকে নাজমুল ইসলামের লাশ উদ্ধার করে গাজীপুর থানার পুলিশ। তখন নাজমুল ইসলামের স্ত্রী সাবিরা সুলতানা ছিলেন একজন গৃহবধূ। পরে তিনি রাজনীতিতে নাম লেখান। এরপর ২০১৪ সালের নির্বাচনে ঝিকরগাছা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। নাজমুল-সাবিরা দম্পতির তিন ছেলে। বড় ছেলে যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। মেজ ছেলে লন্ডনে বার অ্যাট ল পড়ছেন আর ছোট ছেলে ঢাকায় পড়াশোনা করেন।