রংপুরে ‘গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, সংস্কার ও নির্বাচনী ইশতেহার’ নিয়ে বিভাগীয় সংলাপে বক্তব্য দেন সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। আজ শনিবার দুপুরে নগরের আরডিআরএস মিলনায়তনে
রংপুরে ‘গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, সংস্কার ও নির্বাচনী ইশতেহার’ নিয়ে বিভাগীয় সংলাপে বক্তব্য দেন সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। আজ শনিবার দুপুরে নগরের আরডিআরএস মিলনায়তনে

স্বৈরতান্ত্রিক কাঠামো এখনো জেঁকে বসে আছে: বদিউল আলম মজুমদার

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, ‘শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর যে কাঠামো রেখে গেছেন, সেই স্বৈরতান্ত্রিক কাঠামো এখনো আমাদের ওপর জেঁকে বসে আছে। আমরা আশা করছি, ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোটে মানুষের যে হ্যাঁ বা না ভোট দেওয়ার অধিকার থাকবে, সেখানে তাঁরা সঠিক সিদ্ধান্ত দেবেন। এর ফলে সংস্কার প্রস্তাবগুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হবে এবং একটি গণতান্ত্রিক উত্তরণ ঘটবে।’

আজ শনিবার দুপুরে রংপুর নগরের আরডিআরএস মিলনায়তনে ‘গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, সংস্কার ও নির্বাচনী ইশতেহার’ নিয়ে বিভাগীয় সংলাপে এ কথা বলেন বদিউল আলম মজুমদার। ‘সচেতন, সংগঠিত ও সোচ্চার জনগোষ্ঠীই গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ’ শীর্ষক স্লোগানে এ সংলাপের আয়োজন করে সুজনের রংপুর জেলা ও মহানগর কমিটি।

শুধু সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনই যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘এটি গণতান্ত্রিক যাত্রাপথের সূচনা মাত্র। আমাদের গণতান্ত্রিক উত্তরণ করতে হবে। অর্থাৎ গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করতে হবে। এ জন্য কতগুলো সংস্কার দরকার। আমাদের কতগুলো আইনি সংস্কার দরকার, নির্বাচনী অঙ্গনকে পরিচ্ছন্ন করা দরকার। রাজনৈতিক অঙ্গনকে কলুষমুক্ত করা দরকার। টাকার খেলা বন্ধ করা দরকার। আমাদের নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমকে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করা দরকার। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করা দরকার।’

বিভাগীয় সংলাপে সভাপতিত্ব করেন সুজনের জেলা কমিটির সভাপতি ফখরুল আনাম। সুজনের মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক জোবায়দুল ইসলামের সঞ্চালনায় বিভাগীয় সংলাপে বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ মতামত ব্যক্ত করেন। তাঁরা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কালোটাকার ছড়াছড়ি, প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণ বন্ধ করতে সরকারকে নিরপেক্ষ থাকার আহ্বান জানান।

বিভাগীয় এই সংলাপে সংসদ সদস্য প্রার্থীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর রংপুর-৩ আসনের মাহবুবুর রহমান, বাসদের আবদুল কুদ্দুস, বাসদের (মার্ক্সবাদী) আনোয়ার হোসেন ও খেলাফত মজলিসের তৌহিদুর রহমান মণ্ডল।

যাঁরা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন, তাঁরা জুলাই শহীদদের কীভাবে দেখবেন এমন প্রশ্ন তুলে প্রার্থীদের উদ্দেশে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ সাংবাদিক তাহির জামান প্রিয়র মা সামসি আরা জামান বলেন, ‘ইতিমধ্যে শহীদ ও আহত পরিবারের ওপর নানাভাবে নির্যাতন চলছে। এ বিষয়ে আমরা আপনাদের (প্রার্থীদের) কোনো ধরনের কথা শুনতে পাচ্ছি না।’ তবে উপস্থিত চার প্রার্থীই জুলাইয়ের শহীদ পরিবার ও আহতদের পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলে উল্লেখ করেন।

জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী তালিকায় কোনো নারী নেই কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘এই নির্বাচনে নারীদের সরাসরি মনোনয়ন দেওয়ার পক্ষে ছিল জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটি। কিন্তু আমাদের নারীরা কেন্দ্রীয় কমিটিকে বলেছেন, এই মুহূর্তে তাঁদের পক্ষে সরাসরি নির্বাচন করা সম্ভব নয়।’ ভবিষ্যতে তাঁরা সরাসরি ভোটে নারীদের মনোনয়ন দিতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন জামায়াতের এই প্রার্থী।

এই নির্বাচনী ব্যবস্থা শুধু কালোটাকা ও কোটিপতিদের ক্লাব তৈরি করার জন্য উল্লেখ করে বাসদের প্রার্থী আবদুল কুদ্দুস বলেন, শুধু মনোনয়নপত্র জমা দিতে তাঁর খরচ হয়েছে ৬৯ হাজার ৫০০ টাকা। অনেকের এই টাকা জোগাড় করার সামর্থ্য নেই।

প্রার্থী তৌহিদুর রহমান মণ্ডল বলেন, নির্বাচন সংস্কার কমিশন হওয়ার পর মনে হয়েছিল, প্রতীকের চেয়ে ব্যক্তির মূল্য বেশি হবে; কিন্তু এখনো প্রতীক বিবেচনা করা হচ্ছে।

সভাপতির বক্তব্যে সুজনের জেলা কমিটির সভাপতি ফখরুল আনাম প্রার্থীদের নির্বাচনী ইশতেহারের ওপর গুরুত্ব দেন।