সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ৯ বছর বয়সী এক শিশুকে হাত–পা বেঁধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী এক তরুণের (২৫) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই তরুণকে একমাত্র আসামি করে গতকাল রোববার দিবাগত রাতে শিশুটির মা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
মামলায় তুলে ধরা অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত মঙ্গলবার দুপুরে আম দেওয়ার কথা বলে ওই তরুণ স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির তিন মেয়েশিক্ষার্থীকে তাঁর নিজ বাড়িতে ডেকে নিয়ে যান। এ সময় বাড়িতে আর কেউ ছিল না। এ অবস্থায় তিন শিশুকে নিজ ঘরে নিয়ে দরজা বন্ধ করে হাত-পা বেঁধে তিনজনকেই বিবস্ত্র করে যৌন নিপীড়ন চালান ওই তরুণ। একপর্যায়ে তিনি দুজনকে বিছানার পাশে অন্যদিকে মুখ দিয়ে দাঁড় করিয়ে রেখে এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনার পর তিন শিশুকেই ৩০০ টাকা করে হাতে ধরিয়ে দিয়ে বিষয়টি কাউকে না জানাতে বলেন এবং ভয়ভীতি দেখান ওই যুবক।
কিন্তু শিশুরা টাকা না নিয়ে দ্রুত দৌড়ে ওই বাড়ি থেকে বেরিয়ে বিষয়টি স্বজনদের জানিয়ে দেয়। এরপর তাদের অভিভাবকেরা এলাকার মুরব্বিদের বিষয়টি অবগত করলে রোববার বিকেলে সালিসের আয়োজন করা হয়। তবে সালিসে অভিযুক্ত তরুণ ও তাঁর বাবা হাজির হননি।
বিষয়টি জানতে পেরে রোববার বিকেলে শাহজাদপুর থানা–পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সালিস পণ্ড করে দেয়। এদিন রাতেই নির্যাতিত শিশুটির মা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত তরুণের বাবা দাবি করেন, তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে এলাকার প্রধানেরা টাকা দাবি করেছেন। সেই টাকা না দেওয়ার কারণে সম্মানহানি করার জন্য তাঁর ছেলেকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফাঁসানো হচ্ছে। তাঁর ছেলে ঢাকায় পড়াশোনা করে, সেখানেই থাকে।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম আজ সোমবার বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন ,শিশুকে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। নির্যাতিত শিশুটির স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য দুই শিশুর জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।