মেহেরপুরে রাতের আঁধারে পুকুরে বিষ দিয়ে অর্ধকোটি টাকার মাছ নিধন করা হয়েছে। আজ শুক্রবার সকালে
মেহেরপুরে রাতের আঁধারে পুকুরে বিষ দিয়ে অর্ধকোটি টাকার মাছ নিধন করা হয়েছে। আজ শুক্রবার সকালে

মেহেরপুরে পুকুরে বিষ প্রয়োগ, অর্ধকোটি টাকার মাছ মরে যাওয়ার অভিযোগ

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার জুগিন্দা গ্রামে রাতের আঁধারে একটি পুকুরে বিষ মিশিয়ে প্রায় অর্ধকোটি টাকার মাছ মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। আজ শুক্রবার সকালে পুকুরের পানিতে মরা মাছ ভাসতে দেখে স্থানীয় লোকজন। পরে তাঁরা পুকুরের মালিককে খবর দেন। পুকুরটির মালিক স্থানীয় বাসিন্দা ও তৈরি পোশাক ব্যবসায়ী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান।

স্থানীয় কয়েকজন জানান, আজ ভোরে গ্রামের কয়েকজন কৃষক ওই পুকুরের পাড় দিয়ে হেঁটে খেতে কাজ করতে যাচ্ছিলেন। এ সময় তাঁরা পুকুরের পানিতে মরা মাছ ভাসতে দেখে পুকুরের মালিককে জানান। পরে গ্রামের লোকজনও সেখানে জড়ো হন। অনেকে জাল দিয়ে দ্রুত জীবিত মাছ ধরতে পুকুরে নামেন। কিন্তু বিষক্রিয়ায় সব মাছই মারা যায়।

পুকুরের মালিক কামরুজ্জামান বলেন, তাঁর পুকুরে বিক্রির উপযোগী ৯–১০ কেজি ওজনের পাঙাশ, রুই, কাতলা, তেলাপিয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রচুর মাছ ছিল। বিষ দেওয়ায় পুকুরের সব মাছ মরে ভেসে উঠেছে। এতে তাঁর প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

কামরুজ্জামান অভিযোগ করেন, বেশ কিছুদিন ধরে তাঁকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। পূর্বশত্রুতার জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে এই বিষ প্রয়োগের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তবে তিনি কারও নাম জানানি।

গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হবে।

গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন (ইউএনও) বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত। একজন মৎস্যচাষির এভাবে ক্ষতি হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। ভুক্তভোগীকে আইনি সহায়তার পাশাপাশি মৎস্য দপ্তরের মাধ্যমে কোনো সরকারি সহযোগিতা করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।