মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া আঞ্চলিক কার্যালয়। অস্বাভাবিক বিলের ঘটনায় এই কার্যালয়ের তিন কর্মকর্তাসহ মোট চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে
মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া আঞ্চলিক কার্যালয়। অস্বাভাবিক বিলের ঘটনায় এই কার্যালয়ের তিন কর্মকর্তাসহ মোট চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে

৫০৬ কোটির ভুতুড়ে বিলের ঘটনায় জিএমসহ চারজন বরখাস্ত, মন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ

মাগুরায় এক আবাসিক গ্রাহকের ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে ৫০৬ কোটি টাকার অস্বাভাবিক বিল দেওয়ার ঘটনায় মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. মহিতুল ইসলামসহ চার কর্মকর্তা–কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গ্রাহক মোছা. আলেয়া খাতুনকে ফোন করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

আজ বুধবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। মো. মহিতুল ইসলামকে বরখাস্তের পর জেলার মহম্মদপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) এস এম শাহিন আহসানকে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনিও চারজনকে বরখাস্তের বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন।

মো. মহিতুল ইসলাম ছাড়া বরখাস্ত হওয়া অন্য তিনজন হলেন মাগুরার শালিখা উপজেলার আড়পাড়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের বিলিং সুপারভাইজার সীমা রানী রায়, বিলিং সহকারী সোমা রানী ঘোষ ও মিটার রিডার কাম মেসেঞ্জার মোহাম্মদ তোরাপ আলী। তাঁদের মধ্যে মো. মহিতুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করে যশোর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কার্যালয়ে এবং অন্য তিনজনকে মাগুরা সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এর আগে মাগুরা সদর উপজেলার কেচুয়াডুবি গ্রামের আলেয়া খাতুনের নামে ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকার বিল ইস্যু করে পল্লী বিদ্যুতের আড়পাড়া আঞ্চলিক কার্যালয়। বিষয়টি জানাজানির পর বিলটি সংশোধন করা হয়। পরে সংশোধিত ১ হাজার ৯৬৩ টাকার বিল পরিশোধ করেন আলেয়া খাতুন।

২৩৫ ইউনিট বিদ্যুতের বিল (বাঁয়ে) প্রথমে ৫০৬ কোটি টাকা দেওয়া হলেও পরে সংশোধিত বিল (ডানে) দেওয়া হয়

মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বিষয়টি জানার পর তাৎক্ষণিক তদন্তের নির্দেশ দেন মন্ত্রী। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, মিটার পরিবর্তনের সময় যান্ত্রিক অসাবধানতাবশত সিল নম্বর ডিমান্ড চার্জের ঘরে বসানোয় অবিশ্বাস্য ভুতুড়ে বিল তৈরি হয়েছিল। প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর ঘটনায় জড়িত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

গ্রাহককে ফোন করে দুঃখ প্রকাশ

এদিকে অস্বাভাবিক বিলের বিষয়টি গণমাধ্যমে আসার পর আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভুক্তভোগী গ্রাহক আলেয়া খাতুনকে ফোন করে দুঃখ প্রকাশ করেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। ফোনালাপে মন্ত্রী অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে তৈরি হওয়া মানসিক বিড়ম্বনা ও উদ্বেগের জন্য গ্রাহকের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের সমস্যা সরাসরি কর্তৃপক্ষকে জানানোর জন্য অনুরোধ করেন তিনি।

ফোন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে আলেয়া খাতুন দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, ‘উনি বেশি কিছু বলেননি। শুধু দুঃখ প্রকাশ করলেন। আরও অনেক ফোন আসার কারণে আমার মাথা আওলায় গেছে। তাই মন্ত্রী নাকি প্রতিমন্ত্রী ফোন করেছিলেন, তা নিয়ে আমি কনফিউজড।’

এক বিজ্ঞপ্তিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, বর্তমান সরকার জনবান্ধব ও সেবাধর্মী প্রশাসন নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে বিদ্যুৎ–সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।