কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় ২০২২ সালে বিএনপির একটি কর্মসূচিতে গুলি ও হামলার ঘটনায় তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সারোয়ার জাহান, আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীসহ ৩২ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
গত ২৪ মে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাজহারুল হক আদালতে আবেদনটি করেন। গতকাল সোমবার কিশোরগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আবেদনটি মামলা হিসেবে নিতে পাকুন্দিয়া থানাকে নির্দেশ দেন।
মামলায় পাকুন্দিয়া থানার তৎকালীন ওসি সারোয়ার জাহান, ১৪ জন উপপরিদর্শক (এসআই) এবং আওয়ামী লীগের ১৭ নেতা–কর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৯০ থেকে ১১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে বিএনপির কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে পাকুন্দিয়ায় একটি বিক্ষোভ মিছিল হয়। ওই দিন পৌর এলাকার সৈয়দগাঁও চৌরাস্তায় নেতা–কর্মীরা সমবেত হলে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের সংঘর্ষ হয়।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ওসি সারোয়ার জাহানের নেতৃত্বে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরা বিএনপির কর্মসূচিতে হামলা চালান। এ সময় ওসির শর্টগানের গুলিতে যুবদল নেতা আবদুল জলিলের বাঁ চোখ গুরুতর জখম হয়। এসআই নাহিদ হাসানের গুলিতে ছাত্রদল নেতা শ্রাবণের বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। এসআই আরিফের গুলিতে গোলাপের পেট ও বাঁ ঊরুতে গুরুতর জখম হয়। এ ছাড়া এসআই শাহ কামাল যুবদল নেতা মোখলেছকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে তাঁর বাঁ হাতের কবজি ভেঙে দেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার বাদীর দাবি, এ ঘটনায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শতাধিক নেতা–কর্মী আহত হন এবং তাঁদের অনেককে ঢাকাসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়।
পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান বলেন, আদালতের নির্দেশনার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে আদেশের অনুলিপি এখনো হাতে পাননি। আদেশ পাওয়ার পর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে তৎকালীন ওসি সারোয়ার জাহানের ব্যক্তিগত মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।