বাগেরহাটের কচুয়ায় পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত এক আসামিকে ছিনিয়ে নিয়েছেন তাঁর সহযোগীরা। গতকাল বুধবার বিকেলে উপজেলার খলিশাখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহত পুলিশ সদস্যদের নাম রাজু খান। তিনি পুলিশ কনস্টেবল পদে কচুয়া থানায় কর্মরত।
ছিনিয়ে নেওয়া ওই আসামির নাম নাদিম শেখ (৩৩)। তাঁর বাড়ি খলিশাখালী গ্রামে।
পুলিশ জানায়, ২০২৪ সালের একটি দস্যুতা মামলায় নাদিম শেখের বিরুদ্ধে পরোয়ানা আছে। এ ছাড়া এলাকায় মারধর, চাঁদাবাজি, দখলসহ নানা অভিযোগ আছে তাঁর বিরুদ্ধে। গতকাল তাঁকে গ্রেপ্তার করতে উপপরিদর্শক (এসআই) আনিচুর রহমান ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ইমদাদুল ইসলামের নেতৃত্বে ৭ সদস্যের একটি দল তাঁর বাড়িতে অভিযান চালায়। পুলিশ নাদিমকে আটক করে নিয়ে আসার সময় তাঁর ছোট ভাই সাগর শেখ ধারালো অস্ত্র দিয়ে পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
আসামি নাদিমকে ছিনিয়ে নিতে সাগর পুলিশ কনস্টেবল রাজু খানকে লক্ষ্য করে কোপ দিলে তাঁর ডান হাতে গুরুতর জখম হয়। এই সুযোগে নাদিম ও সাগর দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
আহত পুলিশ কনস্টেবল রাজু খানকে উদ্ধার করে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুর রহমান বলেন, পরোয়ানাভুক্ত আসামি নাদিমকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসার সময় তাঁর ভাই অতর্কিত হামলা করে। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্য রাজু খান গুরুতর জখম হন। অপরাধীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে।
২০২২ সালের ২০ মার্চ রাতে খলিশাখালীর পাশের গ্রাম সম্মানকাঠি গ্রামে সন্ত্রাসী হামলায় কচুয়া থানার এসআই রবিউল ইসলাম গুরুতে আহত হয়েছিলেন। ২০২৫ সালের ১ এপ্রিল বাগেরহাটের কচুয়ায় গ্রেপ্তার আসামিকে ছাড়িয়ে নিতে বিএনপির নেতা-কর্মীদের হামলায় চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছিলেন।