
১৯৭১ সালে ৯ মাস যুদ্ধ করে একটি স্বাধীন দেশ পেয়েছি। এই স্বাধীনতা অর্জনের জন্য ৩০ লাখ মানুষকে প্রাণ দিতে হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সেই সময়ের নির্যাতনের স্মৃতি এখনো মনে পড়লে এখনো গা শিউরে উঠে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ধারণ করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
আজ বুধবার সকালে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ ভূঁইয়ারবাগ এলাকায় বিদ্যানিকেতন হাইস্কুলে ‘বন্ধুসভা মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড-২০২৬’ অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধারা এ কথাগুলো বলেন। প্রথম আলো বন্ধুসভা এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
মুক্তিযুদ্ধের আলোয় জাগ্রত তরুণ্য’ স্লোগান নিয়ে নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, চেতনা ও মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতে মার্চজুড়ে দেশব্যাপী মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াডের আয়োজন করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সবার জন্য অনলাইন কুইজ প্রতিযোগিতা এবং প্রথম আলোর ওয়েব পেইজ ও বন্ধুসভার ফেসবুক পেজে প্রতিদিন কুইজ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
প্রথম আলো নারায়ণগঞ্জ বন্ধুসভার সভাপতি সাব্বির আল ফাহাদের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক ইমরান নাজিরের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি হালিম আজাদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলার সাবেক সভানেত্রী লক্ষ্মী চক্রবর্তী, নারায়ণগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবদুস সালাম, বিদ্যানিকেতন হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক উত্তম কুমার সাহা প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রথম আলো বন্ধুসভা জাতীয় পরিচালনা পর্ষদের মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক আশফাকুজ্জামান।
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণা করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা হালিম আজাদ। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে বর্বরোচিত হামলার পর ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে মানুষ প্রাণ বাঁচাতে বক্তাবলী ইউনিয়নে আশ্রয় নেন। তিনি তখন দশম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। তিনি ও তাঁর সহযোদ্ধারা গ্রামের মুরব্বিদের নিয়ে আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও খাবারের ব্যবস্থা করেন এবং গুরুতর আহত ব্যক্তিদের নৌকায় করে মুন্সীগঞ্জে পাঠান।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে হালিম আজাদ বলেন, ‘তোমরা নৈতিক আদর্শবান শিক্ষায় শিক্ষিত হবে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানবে নিজেকে বেগবান করবে। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ধারণ করে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।’
রফিউর রাব্বি বলেন, ‘আমাদের চিন্তাচেতনার বেড়ে ওঠার সব কিছু ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ। আমাদের রাষ্ট্রক্ষমতায় যাঁরা থাকেন, তাঁরা ইতিহাসকে তাঁদের পক্ষে নেওয়ার জন্য ইতিহাস বদলে দিতে চান, যার ফলে রাষ্ট্র বদলের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের ইতিহাসও বদলে যেতে থাকে।’ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে হবে, মুক্তিযুদ্ধের বই পড়তে হবে। মুক্তিযুদ্ধের গ্রন্থগুলোর পাঠের মধ্যে দিয়ে তোমরা ইতিহাসকে জানবে। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের হাজার বছরের ইতিহাসের একটি গৌরবগাথা।’
মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ উল্লেখ করে লক্ষ্মী চক্রবর্তী বলেন, ‘তরুণ বয়সে পারিবারিক চেতনার মধ্যে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি। ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদ এবং দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে আমরা একটি স্বাধীন দেশ পেয়েছি। মুক্তিযুদ্ধের সেই সময়ের নির্যাতনের স্মৃতি এখনো মনে পড়লে এখনো গা শিউরে উঠে।’
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতায় মোট ৮০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। প্রাথমিক বাছাই শেষে ৫ জন শিক্ষার্থীকে বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। প্রথম হয়েছে সজীব দাস, দ্বিতীয় সায়লা আক্তার, তৃতীয় উম্মে হানি অনি, চতুর্থ তরিকুল ইসলাম এবং পঞ্চম হয়েছে ওমেরা তাসমির রিদা। তারা সবাই বিদ্যানিকেতন হাইস্কুলের শিক্ষার্থী।
পরে বিজয়ীদের হাতে মুক্তিযুদ্ধের গল্পের বই উপহার দেওয়া হয়। এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলো নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি মজিবুল হক, নারায়ণগঞ্জ বন্ধুসভার সহসভাপতি জহিরুল ইসলাম, সাবেক সহসভাপতি সোহেল হাওলাদার, প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক হাসান আল ইমরান, সদস্য বোরহান উদ্দিন, ইউসুফ কবির, আমির খান সাব্বির, সাকিব, গাজী ওমর ফারুক, জাহিদ মিয়াজী ও জিসান।