
অ্যাম্বুলেন্সের আসনে শুয়ে অসুস্থতায় কাতরাচ্ছিলেন মো. আবুল কাশেম (৭০)। অ্যাম্বুলেন্সটি সাইরেন বাজিয়ে যাচ্ছিল অনেকক্ষণ ধরে। কিন্তু যানজটে আটকা পড়া গাড়িগুলো কোনো দিকেই সরতে পারছিল না। শুধু আবুল কাশেমকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটি নয়, এমন অন্তত ১০টি অ্যাম্বুলেন্স আটকা পড়েছে যানজটে। প্রতিটি অ্যাম্বুলেন্সে গরমে ছটফট করছিলেন রোগীরা। অন্যদিকে তীব্র যানজটে গাড়িতে বসে থাকতে থাকতে বিরক্ত হয়ে নেমে গিয়ে গন্তব্যের পথে হাঁটা শুরু করেন অনেক যাত্রী। অনেক নারী ও শিশু তপ্ত রোদেই গাড়ির ভেতরে বসে ছিলেন।
আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করলে প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। সীতাকুণ্ডের সলিমপুর ইউনিয়নের জঙ্গল সলিমপুর গ্রামের বাসিন্দারা বিদ্যুৎ–সংযোগের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করলে ২০ কিলোমিটার সড়কজুড়ে এ যানজট তৈরি হয়। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে পুলিশ গিয়ে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া দিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। এরপর যান চলাচল শুরু হয়। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দীর্ঘ ওই জট কমে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগবে।
পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জঙ্গল সলিমপুর গ্রামে অবৈধভাবে সরকারি পাহাড় কেটে দখলের পর বসতি গড়ে তোলা হয়েছে। মাসখানেক আগে গ্রামটির আলীনগর এলাকার বিদ্যুৎ–সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে জেলা প্রশাসন। আলীনগর ছাড়া ওই গ্রামের অন্যান্য এলাকায়ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন সীমিত করা হয়। এ কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন ওই এলাকার বাসিন্দারা।
দিনভর সড়ক আটকে রাখার পর বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে অবরোধকারীদের ধাওয়া দেয় পুলিশ। এ সময় অবরোধকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। তারা ফৌজদারহাট বন্দর সংযোগ সড়কের ট্রাফিক পুলিশ বক্স ভাঙচুর করে। এ সময় মহাসড়কে থাকা অন্তত পাঁচটি গাড়ি ভাঙচুর করে তারা। এরপর পুলিশ অবরোধকারীদের লক্ষ্য করে টিয়ার গ্যাসের শেল ছুড়লে তারা মহাসড়ক থেকে সরে যায়। ফৌজদারহাট–বায়েজিদ সংযোগ সড়ক দিয়ে পিছু হটিয়ে অবরোধকারীদের জঙ্গল সলিমপুর গ্রামে ঢুকিয়ে দেয় পুলিশ।
যানজটে আটকা পড়া অ্যাম্বুলেন্সের রোগী আবুল কাশেমের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ এলাকায়। তিনি হৃদ্রোগ ও ক্যানসারে আক্রান্ত। আজ দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা তাঁকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটি মহাসড়কে আটকা ছিল। তাঁর মেয়ে শিল্পী আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাবার অবস্থা খুবই খারাপ। এক মাস ধরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অবস্থা খারাপ হওয়ায় চিকিৎসকেরা তাঁকে বাড়িতে নিয়ে যেতে বলেছেন। যানজটে আটকে তাঁর খুব কষ্ট হচ্ছে।’
ঢাকা থেকে ইউনিক পরিবহনে সীতাকুণ্ডের টোব্যাকো গেট এলাকায় এসে যানজট আটকা পড়েন নরসিংদীর মাদ্রাসা শিক্ষক আবদুল মান্নান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, দুপুর সোয়া ১২টার দিকে যানজটে আটকা পড়ার পর ঘণ্টাখানেক বাসে বসে ছিলেন। অসহনীয় গরমে পরে বের হয়ে রাস্তায় আরও আধা ঘণ্টা গাছের ছায়ায় বসে থাকেন। পরে যানজট না ছাড়ায় হেঁটেই চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাটের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।
নোয়াখালী থেকে বাঁধন পরিবহনে চট্টগ্রাম যাচ্ছিলেন আলেয়া বেগম (৪৫)। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মেয়ে লিপি আক্তার (২২)। দুপুর আড়াইটার দিকে আলেয়া বেগম প্রথম আলোকে বলেন, ‘দীর্ঘক্ষণ বসে থেকে গরমে অতিষ্ঠ হয়ে গেছি। টিকতে না পেরে হেঁটেই রওনা দিয়েছি।’
বাস থেকে নেমে সড়ক বিভাজকের ওপর বসে ছিলেন মোহাম্মদ রফিক। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, দুই শিশুসহ পরিবারের ছয় সদস্যদের নিয়ে বাসে বসে আছেন। সঙ্গে তিনটি লাগেজ আছে। লাগেজ ও শিশুদের নিয়ে কোনোভাবেই হেঁটে যাওয়া সম্ভব নয়। বাচ্চারা খাবারের জন্য কান্নাকাটি করছিল। কিন্তু আশপাশে কোনো দোকান নেই। এ জন্য যানজট ছাড়ার অপেক্ষায় ছিলেন তিনি।
ফৌজদারহাট ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (টিআই) আজম উদ্দিন সন্ধ্যা ছয়টার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে অবরোধকারীরা মহাসড়ক ছেড়ে দিলে যানবাহন চলাচল শুরু করে। পাঁচ ঘণ্টা ধরে আটকে থাকা যানবাহনের চলাচল স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগবে।
সীতাকুণ্ড উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, জঙ্গল সলিমপুরের বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেননি তাঁরা। দেশে বিদ্যুৎ–সংকটের কারণে অন্যান্য এলাকার মতো সেখানেও বিদ্যুৎ সরবরাহ সীমিত রয়েছে। ওই এলাকায় সরকারি পাহাড় কেটে যে বসতি গড়ে উঠেছে, সেগুলো সম্পূর্ণ অবৈধ। অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করতে কাজ শুরু করেছে প্রশাসন। তবে ভূমিহীন ও অসহায়দের পুনর্বাসন করা হবে।
ফৌজদারহাট ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (টিআই) আজম উদ্দিন সন্ধ্যা ছয়টার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে অবরোধকারীরা মহাসড়ক ছেড়ে দিলে যানবাহন চলাচল শুরু করে। পাঁচ ঘণ্টা ধরে আটকে থাকা যানবাহনের চলাচল স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগবে।
সীতাকুণ্ড উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, জঙ্গল সলিমপুরের বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেননি তাঁরা। দেশে বিদ্যুৎ–সংকটের কারণে অন্যান্য এলাকার মতো সেখানেও বিদ্যুৎ সরবরাহ সীমিত রয়েছে। ওই এলাকায় সরকারি পাহাড় কেটে যে বসতি গড়ে উঠেছে, সেগুলো সম্পূর্ণ অবৈধ। অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করতে কাজ শুরু করেছে প্রশাসন। তবে ভূমিহীন ও অসহায়দের পুনর্বাসন করা হবে।